১৪ মার্চ ২০২৬

অপ্রস্তুত ভবনে চসিকের কার্যালয়, ব্যাহত নাগরিক সেবা

শাহ আলম বাবু »

গত জুন মাসের ২৪ তারিখ রোববার সকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সকল কার্যক্রম আন্দরকিল্লার ঝুঁকিপূর্ণ নগর ভবন থেকে স্থানান্তরিত করে টাইগার পাস এলাকায় বিন্না ঘাস প্রদর্শনী কেন্দ্র সংলগ্ন নিজস্ব ভবনে শুরু করেছে চসিক।

এখানে ৭ তলা ভবনে প্রায় ১১৮ টি কক্ষে করা হয় বিভিন্ন বিভাগের অফিস। মেয়রসহ উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তার অফিস কক্ষ প্রস্তুত হলেও এখনো অপ্রস্তুত অবস্থায় দেখা যায় বেশীর ভাগ বিভাগ ও কর্মকর্তাদের কক্ষ।

সেখানে চলছে টেবিল, চেয়ার, বিভিন্ন ধরনের ফার্ণিচার, রুমের প্লাস্টার, ইন্টারনেট সংযোগ, ফাইলের জন্য র‌্যাক তৈরি, টেলিফোন লাইনের কাজসহ বিভিন্ন ধরণের অসমাপ্ত কাজ। সাত-তলা ভবনটিতে লাগানো হয়নি কোন লিফ্টও। ভবনে পার্কিংয়ের কোন ব্যবস্থা না থাকায় কর্মকর্তা ও কাউঞ্চিলরদের গাড়িগুলো রাখা হয়েছে রাস্তার উপরই।

বিভিন্ন কক্ষে চলছে কাজ।

বেশির ভাগ অফিসের কাজ না শেষ হওয়ায় কক্ষগুলির সামনে দেওয়া হয়নি নাম ফলক। কোন কর্মকর্তার কোন কক্ষ সেটা বের করতে রিতিমত হিমসিম খেতে হচ্ছে সেবা প্রত্যাশীদের।

সিটি কর্পোরেশনে কর্মরত আছেন প্রায় ৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর। অফিস কক্ষ অপ্রস্তুত থাকায় বেশিরভাগ কর্মকর্তাই ছুটিতে আছেন বলে জানা গেছে। এতে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সেবা। চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সেবা নিতে আসা নগরবাসীকে।

ইব্রাহিম নামে এক সেবাপ্রার্থী বাংলাধারা প্রতিবেদককে, এসেছিলাম একটি অনুমোদন নিতে। তবে যে কর্মকর্তার কাছে এসেছিলাম তার অফিস কোথায় চসিকের অন্য কর্মকর্তারাই বলতে পারছেন না। একজন একবার তিন তলায় পাঠান তো আরেকজন ছয় তলায়। এক কর্মকর্তা পাঠালো ৩১৭ নম্বর রুমে। সেখানে গিয়ে দেখি কোন লোক তো দুরে থাক চেয়ার টেবিলও নাই। চলছে বিভিন্ন ফার্নিচারের কাজ।

এ বিষয়ে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা বলেন, আমাদের আগের ভবনটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সেই ভবনটি ভেঙ্গে নতুন ২৩ তলা ভবন করা হবে। যেহেতু ওই ভবনটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ তাই আমরা আমাদের এ ভবনে দ্রুত অফিসটা স্থানান্তর করেছি। আমাদের সকল কার্যক্রম এখানে হবে। যদিও ভবনের সকল কাজ শেষ হয়নি এখনো তারপরও আমরা ঝুঁকি এড়াতে এ নতুন ভবনে তাড়াতাড়ি অফিস নিয়ে এসেছি।

তিনি বলেন, আমাদের যেটুকু কাজ বাকি আছে আশা করা যায় দশ-বার দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।

অসমাপ্ত কাজের জন্য সেবা নিতে আশা নগরবাসীকে বিভিন্ন ধরনের দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাময়িক সমস্যা তো হতেই পারে। আমাদের সমস্যা তো ওখানেও ছিলো। আমরা আগের ভবনে বোর্ড দিয়ে ঘর বানিয়ে অফিস করেছি। এ রকম একটু সমস্যাতো থাকতেই পারে। দেখেন আমাদের এ মুহুর্তে সাধারণ সভা করার মতো কোন জায়গা নাই। এটা আমরা উপরে করবো। যতক্ষণ পর্যন্ত এটা না হবে ততদিন এটার সমস্যাতো থাকবেই।

ভবনের সামনে রাস্তায় পার্ক করা গাড়ি

ছোট একটা অপ্রস্তুত কক্ষে একটা চেয়ার, একটা টেবিল ও কয়েক সোফা নিয়ে বসে থাকা চসিকের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদের কছে এতো বড় একটা ভবনে লিফট না থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের এ ভবনের লিফটের জন্য টেন্ডার ডাকা হয়েছে। খুব শিঘ্রই আমরা লিফটের কাজ শুরু করবো।

গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য কি ব্যবস্থা রেখেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের ভবনের পূর্বপাশে কর্পোরেশনের কিছু জায়গা আছে। আমরা কিছু দিনের মধ্যে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য জায়গাটি প্রস্তুত করবো।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর/এসবি

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ