মুহাম্মদ আব্দুল আলী »
শুধু মানব বা প্রকৃতিপ্রেমী নয়, পৃথিবীতে পশু প্রেমিকও বিরল নয়। আর এমন এক পশুপ্রেমীর দেখা মিলেছে দেশের বন্দর নগরী চট্টগ্রামেও। এই মহামারি করোনা পরিস্থিতে কুকুরকে খাবার দিয়ে যাচ্ছে এমনই এক পশুপ্রেমীর নাম আমীর ইসাবা ফারুক।
‘জীবে প্রেম করে যেইজন সেইজন সেবিছে ঈশ্বর’ স্বামী বিবেকানন্দ’র বাণীকে গুরু কর্তব্য মনে করে পশু প্রেমে উদ্ভুদ্ধ হয়ে নগরীর মোজাফফর নগর, বায়জিদ, টেক্সটাইল, পলিটেকনিকসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন প্ররায় অর্ধশত কুকুরকে খাবার দিচ্ছেন এ পশুপ্রেমী আমীর।
করোনা ভাইরাস থেকে দেশবাসীকে সুস্থ রাখতে দেশে চলছে সরকার ষোষিত ১৭ দিনের সাধারণ ছুটি। ফলে সারা দেশে বন্ধ রয়েছে হোটেল রেস্তোরাসহ সব ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানমালা। শ্রমজীবীসহ সব শ্রণির মানুষ অবস্থান নিয়েছে নিজ নিজ ঘরে।

মহামারি করোনার এই সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে কেটে খাওয়া মানুষের খাবারের ব্যসস্থা করতে এগিয়ে এসেছে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ সামাজিক সংগঠনসহ সমাজের বিশিষ্ট জনরা। কিন্তু এই সবের মাঝে নগরজুড়ে থাকা শত শত বিভিন্ন প্রাণী বিশেষ করে পথকুকুরগুলো আছে ভয়াবহ খাদ্য সংকটে।
নগরীর সকল হোটেল, রেস্তোরাঁ ও নানা সামাজিক অনুষ্ঠানের ক্লাবগুলো বন্ধ থাকায় তাদের খাবারের এই সংকট। কুকুরদের খাদ্য সংকটের এই সময়ে নগরীর ভাসমান কুকুরদের মুখে প্রতিদিন এক বেলা খাবার তুলে দিতে এলাকাভিত্তিক এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি। এদের মধ্যে নগরীর মোজাফফর নগর, বায়েজিদ, টেক্সটাইল, পলিটেকনিক এলাকায় প্রায় অর্ধশত পথকুকুরকে প্রতিদিন এক বেলা খাবার দিচ্ছেন পশুপ্রেমী আমির ইসাবা ফারুক। এলাকার অনেকেই তার এই প্রয়াসকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

আমির ইসাবা পেশায় ছাত্র। পিতা মোহাম্মদ ফারুক পেশায় সাংবাদিক, মা শাহানাজ ফারুক গৃহিনী। ছোট ভাই আবির ইসাবা ফারুককে সাথে নিয়ে পারিবারিকভাবে গত ১ এপ্রিল থেকে এই কার্যক্রম শুরু করেন আমীর। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই কার্যক্রম আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত চালিয়ে নিতে পশুপ্রেমীদের সহযোগিতা কামনা করা হলে অনেকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।
আমীর ইসাবা ফারুক আশা প্রকাশ করে বলেন, দেশের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ তাদের আশপাশের অভুক্ত কুকুরের মুখে অন্তত এক বেলা খাবার তুলে দিবেন। তিনি এই ব্যাপারে পশুপ্রেমী সংগঠন ও পশুপ্রেমীদের সহযোগিতা কামনা করেন। যারা এরই মধ্যে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন তাদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন পশুপ্রেমী আমীর।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ












