১৪ মার্চ ২০২৬

অস্ত্র থানায় জমা দিয়ে এলেন সেই আওয়ামী লীগ নেতা

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লাইসেন্স বাতিলের পর নিজে থানায় গিয়ে অস্ত্র দুটি জমা দিয়ে এসেছেন চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলম মাসুম।

শনিবার (৩ আগস্ট) দুপুরে নগরীর খুলশী থানায় পিস্তল ও শটগান জমা দেন তিনি; যে দুটি অস্ত্র তার প্রকাশ্যে প্রদর্শন বিভিন্ন সময় সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।

খুলশী থানার ওসি প্রণব চৌধুরী বলেন, “তিনি (মাসুম) থানায় এসে নিবন্ধন বাতিল হওয়া অস্ত্র দুটি জমা দিয়ে গেছেন।”

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১৪ নম্বর (লালখান বাজার) ওয়ার্ড কাউন্সিলর এফ কবির মানিকের করা আবেদনে মাসুমের অস্ত্র দুটির লাইসেন্স বাতিল করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মাসুম লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। 

অন্যদিকে, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য মানিক এক দশকেরও বেশি সময় ধরে লালখান বাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিভিন্ন সময়ে লালখান বাজার এলাকায় সংঘর্ষ, একাধিক হত্যাকাণ্ডের পর এবং গণমাধ্যমে অস্ত্রহাতে ছবি ছাপা হওয়ার ঘটনায় আলোচনায় ছিল মাসুমের নাম। 

‘বৈধ অস্ত্রে অবৈধ গুলি’ ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে অস্ত্রের প্রদর্শন করায় নিজের ও স্থানীয়দের ‘নিরাপত্তাহীনতার’ কারণ দেখিয়ে মাসুমের অস্ত্র জব্দের আবেদন করেন কাউন্সিলর মানিক। 

এরপর মন্ত্রণালয় মাসুমের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করলে জেলা প্রশাসন খুলশী থানাকে চিঠি দিয়ে অস্ত্র দুটি জব্দের নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশ পেয়ে পুলিশ বাসায় গিয়ে মাসুমকে না পেয়ে অস্ত্র থানায় জমা করতে নোটিস দিয়ে আসে।

মাসুমের দাবি, আসন্ন সিটি নির্বাচনে তিনি কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দেওয়ায় বর্তমান কাউন্সিলর তার ‘পেছনে লেগেছেন’।  

অস্ত্র হাতে তার যে ছবি দিয়ে অভিযোগ করা হয়, সেটি ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলাম যখন ‘নগরী অবরুদ্ধ করে রেখেছিল’ তখন সেটি ব্যবহার হয়েছিল বলেও দাবি মাসুমের। 

১৯৯৭-৯৮ চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন মাসুম। ২০০১ সালে তিনি লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে প্রায় তিন বছর কারাবাসের পর দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে ছিলেন তিনি। 

২০১৩ সাল থেকে মাসুম লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।   

২০১৭ সালে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাসকে নিজ বাসার সামনে পিটিয়ে খুন করার পর আলোচনায় আসে মাসুমের নাম। 

সুদীপ্ত হত্যায় জড়িতরা সবাই মাসুমের অনুসারী এবং তার নির্দেশেই হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে অভিযোগ নগর ছাত্রলীগের একাংশের।   

এছাড়া লালখান বাজারকেন্দ্রিক আরও কমপক্ষে দুটি খুনের ঘটনার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশ মাসুমের অনুসারীদের দায়ী করে আসছেন। 

মাসুম এক সময়ে চট্টগ্রামের প্রয়াত মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরে সাবেক মন্ত্রী ও সাংসদ আফসারুল আমিনের অনুসারী হিসেবে দেখা যায় তাকে। এখন তিনি সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছিরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর/টিএম

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ