২০ মার্চ ২০২৬

আচার-অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শ্যামা পূজা পালিত

রুবেল দাশ  »

মন্ত্রপাঠ, আচার-অনুষ্ঠান, ধর্মীয় রীতিনীতি ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে শনিবার (১৪ নভেম্বর) পালিত হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী শ্যামা বা কালী পূজা । কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে সাধারণত কালীপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

করোনা মহামারীর দুর্যোগ মাথায় নিয়ে স্বাস্থবিধি মেনে এবারের পূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও মন্দিরে ভক্তদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মানা তেমন সম্ভব হয়নি।

হিন্দু পূরাণ মতে কালী দেবী দুর্গারই একটি শক্তি। সংস্কৃত ভাষার ‘কাল’ শব্দ থেকে কালি নামের উৎপত্তি। কালী পূজা হচ্ছে শক্তির পূজা। জগতের সকল অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে শুভশক্তির বিজয়ই কালী পূজার মূল প্রতিপাদ্য। কালী দেবী তার ভক্তদের কাছে শ্যামা, আদ্য মা, তারা মা, চামুন্ডি, ভদ্রকালী, দেবী মহামায়াসহ বিভিন্ন নামে পরিচিত।

শনিবার রাতে সরেজমিনে নগরীর চট্টেশ্বরী কালী মন্দির, গোলপাহাড় শ্মশান কালী মন্দিরসহ কয়েকটি কালী মন্দিরে গিয়ে দেখা যায় পুণ্যার্থীদের ঢল। দুর্গাপূজার চেয়েও বেশি মানুষ মন্দিরগুলোতে। সব মন্দিরে স্বাস্থ্যবিধির কথা বলা হলেও প্রচন্ড ভিড়ের কারণে মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে বেগ পেতে হয়েছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট মন্দির কর্তৃপক্ষকে।

এদিকে, কালী পূজা উপলক্ষে নগরীর কালী মন্দির ও অস্থায়ী মন্ডপগুলো সেজেছিল বর্ণিল সাজে। লাল-নীল বাতি ও তৈল প্রদীপের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছিল চারপাশ। কালীপূজার সন্ধ্যায় হিন্দুরা তাদের বাড়িতে ও শ্মশানে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে স্বর্গীয় পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের স্মরণ করেন। এটিকে বলা হয় দীপাবলী। এছাড়া শিশু কিশোররা বাজি-পটকা ফুটিয়ে ও ফানুস উড়িয়ে উদযাপন করে কালীপূজা।

পূজা দেখতে আসা দর্শনার্থী বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা মিঠু দাশ বাংলাধারাকে বলেন, কালী পূজার মধ্য দিয়ে জগতের সকল অন্ধকার কেটে যাক এবং করোনামুক্ত হয়ে পৃথিবী আবার সুস্থ হয়ে উঠকু এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

শ্রী শ্রী গোপাল সেবাশ্রম পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিঠুন দাশ বাংলাধারাকে বলেন, মহামারীর কারণে আমরা সীমিত পরিসরে এবার কালীপূজার আয়োজন করেছি। সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে দর্শনার্থীরা পূজা দেখছেন। মা কালীর কাছে আমাদের একটাই প্রার্থনা করোনা মহামারী শেষ হয়ে স্বাভাবিক হয়ে উঠুক পৃথিবী।

বাংলাধারা/এফএস/এআর

আরও পড়ুন