বাংলাধারা প্রতিবেদন »
জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করা হবে আজ বৃহস্পতিবার। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ বাজেট উপস্থাপন করবেন। এটি হবে দেশের ৪৯তম এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে মুস্তফা কামালের দ্বিতীয় বাজেট উপস্থাপন।
এবার এমন এক পরিস্থিতিতে বাজেট উপস্থাপন করা হচ্ছে, যখন করোনা দুর্যোগে পড়ে টালমাটাল দেশের অর্থনীতি। একের পর এক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলো। অনেকেই চাকরি হারিয়েছে। চাকরি হারাতে পারে দেড় কোটি মানুষ।
নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের সঞ্চয় প্রায় শেষ। প্রান্তিক মানুষ খাবারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। এমন দুর্যোগের মধ্যে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের লক্ষ্য একটিই-টিকে থাকা।
এ কারণে এবারের বাজেট গতানুগতিক হচ্ছে না। বরং সরকারের অতীতের অর্জন ও উদ্ভূত পরিস্থিতির সমন্বয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। ‘অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যত পথ পরিক্রমা’ শিরোনামের এই বাজেটে সঙ্গত কারণে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে স্বাস্থ্যখাত। পাশাপাশি কৃষি, খাদ্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির প্রতি দেয়া হচ্ছে অগ্রাধিকার।
অর্থ মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এসব অগ্রাধিকার খাতের পাশাপাশি বাজেটে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন প্রস্তাব থাকবে। ২০০৯ সাল থেকে একাধিক্রমে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি হচ্ছে দ্বিতীয় বাজেট।
করোনা সৃষ্ট পরিস্থিতিতে এবারের বাজেট অধিবেশনে মিডিয়া কাভারেজের জন্য সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার থাকছে না। এমতাবস্থায় সাংবাদিকদেরকে বাজেট ডকুমেন্টস সংসদ ভবনের বাইরে পশ্চিম পার্শ্ববর্তী মিডিয়া সেন্টার থেকে ৩ টা ১৫ মিনিটে বিতরণ করা হবে।
বাজেটকে অধিকতর অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইট www.mof.gov.bd এ বাজেটের সব তথ্যাদি ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পাঠ ও ডাউনলোড করতে পারবে এবং দেশ-বিদেশ থেকে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফিডব্যাক ফরম পূরণ করে বাজেট সম্পর্কে মতামত ও সুপারিশ প্রেরণ করা যাবে। অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, এভাবে প্রাপ্ত মতামত ও সুপারিশ বিবেচনায় নেয়া হবে। জাতীয় সংসদ কর্তৃক বাজেট অনুমোদনের সময়ে ও পরে বিবেচিত প্রস্তাব কার্যকর করা হবে।
এছাড়া বাজেটকে ব্যাপকভিত্তিক অংশগ্রহণমূলক করতে সরকারের কয়েকটি ওয়েবসাইট লিংক ব্রাউজ করে বাজেট সংক্রান্ত তথ্যাদি পাওয়ার ব্যবস্থা থাকছে। ওয়েবসাইটের ঠিকানাসমূহ হলো; www.bangladesh. gov.bd, www.nbr-bd.org, www.plancomm.gov.bd, www.imed.gov.bd, www.bdpressinform.portal.gov.bd, www.pmo.gov.bd
এদিকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল কী ধরনের বাজেট ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন, করোনাভাইরাস কিভাবে মোকাবেলা করা হবে, ভঙ্গুর স্বাস্থ্য খাতই বা উদ্ধারের পরিকল্পনা কী, তা জানতে সবার চোখ থাকবে বাজেটে। সাধারণ মানুষ জানতে চায় আর কত দিন বেকার থাকতে হবে? সরকার তাদের জন্য বাজেটে কী রাখছে? মধ্যবিত্তরা আবার সঞ্চয় করতে পারবে কি না, তা জানতে চায়।
করোনা পরিস্থিতিতে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সবচেয়ে কমসংখ্যক সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে বাজেট ঘোষণা করা হবে। সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস পরতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে একটি করে আসন ফাঁকা রেখে আসনবিন্যাস করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলাম জানান, অর্থমন্ত্রী আজ দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনে যাবেন। দুপুরেই মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন করা হবে। সংসদ নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে সীমিত সংখ্যক মন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
প্রতিবারের মতো এবারও হবে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলন। তবে এবার সরাসরি নয়, অর্থমন্ত্রী তাঁর পরিকল্পনা কমিশনের কার্যালয় থেকে অনলাইনের মাধ্যমে বাজেট সম্পর্কিত বক্তব্য তুলে ধরবেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেবেন।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












