২১ জানুয়ারি ২০২৬

আনোয়ারায় উপকূল জুড়ে মাছ শিকারের বোট তৈরিতে ব্যস্ত মৎস্য ব্যবসায়ীরা

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলে শীত মৌসুমে নতুন ট্রলার ও নৌকা তৈরির ধুম পড়েছে। প্রতি বছর বর্ষা ঋতুর আগমনে বড় আকারের ট্রলার ও নৌকা তৈরি এবং মেরামতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন কারিগর ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা। দিনরাত এক করে বোট তৈরি করছেন তারা। নতুন ট্রলারের পাশাপাশি অনেকে আবার পুরনো কাঠের নৌকা মেরামতেও ব্যস্ত সময় পার করছেন।

আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর এবং জুঁইদন্ডী এলাকা থেকে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে জেলেরা মাছ শিকার করেন। তাই এ সময় ব্যাপকভাবে ট্রলার ও নৌকার প্রয়োজন দেখা দেয়। জেলেরা জানান, তারা এখন সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

উপকূলীয় সাঁপমারা খাল, পারকি খাল ও রায়পুর বেড়িবাঁধ এলাকায় এখন ট্রলার ও নৌকা তৈরির ধুম পড়েছে। নদীর আশপাশের এলাকায় কাউকে দেখা যাচ্ছে পুরনো নৌকায় আলকাতরা লাগাতে, আবার কেউ দিচ্ছেন জোড়াতালি। কেউ কেউ তারকাঁটা ও লোহার পাত দিয়ে তক্তা জোড়া লাগানোর কাজে ব্যস্ত।

সরেজমিনে উপজেলার পারকি, গহিরা, সরেঙ্গা, সাঁপমারা খাল, বাইন্যার দীঘি ও ফকিরহাট ঘুরে দেখা যায়, কারিগররা নতুন ট্রলার তৈরি ও পুরনো নৌকা মেরামতের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কারিগররা জানান, বোট ও নৌকা তৈরির সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের চেয়ে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। বর্ষার আগের এই সময়ে এগুলো তৈরির কাজ করে তাদের বাড়তি কিছু আয় হয়।

সরেঙ্গা সাঁপমারা খালের বেড়িবাঁধ এলাকার বোট তৈরির কারিগর আবদুস সত্তার বলেন, “আমরা অর্ডার নিয়ে এই ট্রলার ও নৌকাগুলো তৈরি করছি। আমার অধীনে ৫ জন কারিগর আছে। কড়ই, হিজল ও মেহগনি কাঠ দিয়ে বেশিরভাগ নৌকা তৈরি করি। এছাড়া আলকাতরা, বাঁশ, তারকাঁটাসহ বিভিন্ন উপকরণ লাগে। এ বছর ৬টি বোট তৈরি করেছি। এর মধ্যে বেশিরভাগই বড় বোট, যেগুলো সাগরের দূর প্রান্তে মাছ ধরার কাজে ব্যবহার করা হয়।”

ট্রলার মালিকরা জানান, আকারভেদে একটি বড় বোট তৈরিতে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা প্রয়োজন হয়। এ বছর এই উপকূলে ৬টির বেশি বড় বোট তৈরি হচ্ছে। কাঠ ও লোহাসহ অন্যান্য সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের চেয়ে খরচ বেশি লাগছে। মাছ শিকার করে অধিক লাভের আশায় অনেকে ঋণ নিয়ে এসব ট্রলার ও নৌকা তৈরি করছেন বলে জানান তারা।

আরও পড়ুন