২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

চরম ভোগান্তিতে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীরা

আনোয়ারায় রোগীদের সরিয়ে আহত নেতাকর্মীদের ভর্তি, এমপির নাটকীয় পরিদর্শন

আনোয়ারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের সরিয়ে নির্বাচনকালীন বিভিন্ন আহত নেতাকর্মীদের সাময়িক ভর্তি দেখিয়ে পরিদর্শনে আসলেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম। পরিদর্শনকালে এমপির সঙ্গে শতাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতি দেখা যায়। এ সময় পরিদর্শন ঘিরে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমন নাটকীয় পরিদর্শন করেন তিনি।

জানা যায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে বিভিন্ন মারামারিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আহত হয়। সেই আহতদের যার যার এলাকায় দেখতে না গিয়ে তাঁদের সবাইকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেকে এনে ভর্তি করান। পরে পরিদর্শন করে আহত রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন ও ছবি তোলেন। তাঁদেরকে সিটে রাখতে আগে থেকে ভর্তি থাকা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের বাইরে বের করে দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে আগে থেকে ভর্তি থাকা একাধিক রোগীকে সরিয়ে আহত একাধিক নেতাকর্মীদের বেডে ভর্তি দেখানো হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও ওয়ার্ড এলাকায় অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং চিকিৎসাসেবায় বিলম্ব হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিকেল নাগাদ আহত অবস্থায় ভর্তি থাকা নেতাকর্মীরা হাসপাতাল ত্যাগ করেন। ফলে যেসব রোগীকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে তৈরি হয় চরম অসন্তোষ।

সাত দিন ধরে শ্বাসকষ্ট রোগে আক্রান্ত এক বৃদ্ধ রোগী বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছি। সকালে আমাদের এই রুম থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে আমাদের সিটে মারামারিতে আহত কয়েকজনকে রাখা হয়। তাঁদের সঙ্গে এমপি কথা বলেন ও ছবি তোলেন। এমপি চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরাও চলে যায়।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘আমাদের রোগী ভর্তি ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক লোকজন আসার পর আমাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে এমপি চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভর্তি হওয়া রোগীরা চলে যায়।’

আক্ষেপ নিয়ে এক রোগী বলেন, ‘এমপি আসার কথা শুনে কথা বলতে অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু এমপি সাহেব আমাদের সঙ্গে কথা বলেননি। নেতাকর্মীদের চাপে এমপি সাহেব রোগীদের সঙ্গে সুখ-দুঃখের কথাও বলতে পারেননি। তিনি প্রকৃত ভর্তি রোগীরা যেখানে ছিলেন সেখানে দেখতে আসেননি। যারা এসে ভর্তির ফরম সংগ্রহ করেছেন, তাঁদের জনপ্রতি দুই হাজার টাকা করে এমপি দিয়েছেন।’

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ২৩ জন রোগী ভর্তি হয়। বিকেল গড়াতেই এসব রোগী হাসপাতাল ছাড়েন।

জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে এক নার্স বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে স্যারের সঙ্গে কথা বলেন। আমাদের কাছে ভর্তির তালিকা আছে। কিন্তু বর্তমানে ওই রোগীরা হাসপাতালে নেই।’

বিষয়টি অস্বীকার করে মুঠোফোনে সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন, ‘আমি কেন এমনটা করবো। আমি সাধারণ রোগীদের সঙ্গে কথা বলেছি। অসুস্থ নেতাকর্মীদের আমি দেখতে চেয়েছি, তাই তাঁদের এখানে আসতে বলা হয়েছিল।’

জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাবউদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সময়ে আহত নেতাকর্মীরা ভর্তি হয়েছে শুনে এমপি সাহেব হাসপাতালে ছুটে এসেছেন। আহতরা আগে চট্টগ্রাম নগরীর বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল, পুনরায় চিকিৎসা নিতে এখানে এসেছে।’

অন্যদিকে অভিযোগ উঠে, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এক সপ্তাহ ধরে এলাকায় আসেননি সরওয়ার জামাল নিজাম। এছাড়া চট্টগ্রাম-১৩ সংসদীয় আসনে স্থানীয় সাংসদ কর্তৃক একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে কোনো কর্মসূচি পালিত না হওয়ায় স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ