৮ মার্চ ২০২৬

আনোয়ারায় সড়কের পাশে ফেলে যাওয়া দুই শিশুর বাবা পুলিশি হেফাজতে

কনকনে শীতের রাতে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সড়কের পাশে ফেলে যাওয়া পরিত্যক্ত অবস্থায় দুই শিশুকে উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে যে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে, তার নেপথ্যের তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের অনুসন্ধানে।

এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে আনোয়ারা থানা পুলিশ তৎপরতা শুরু করে। এতে পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মোমেন কান্তির নেতৃত্বে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতের দিকে পার্শ্ববর্তী বাঁশখালী উপজেলা থেকে শিশু দুটির বাবা মো. খোরশেদ আলম (৩৫)-কে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।

খোরশেদ আলমের বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মহামনি এলাকায়। পারিবারিক বিরোধের জেরে তার স্ত্রীর অপকর্মের কারণে তাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। পরে বাঁশখালীর মিয়ারবাজার লস্করপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

গত রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে আনোয়ারা উপজেলার ৬ নম্বর বারখাইন ইউনিয়নের শোলকাটা এলাকা থেকে ৪ বছরের আয়েশা আক্তার ও ১৪ মাস বয়সী মোরশেদকে অসহায় অবস্থায় উদ্ধার করেন এক সিএনজি চালক। পরে সিএনজি চালক মহিম উদ্দিন তাদের নিজের বাড়িতে নিয়ে আশ্রয় দেন। এরপর আনোয়ারা থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করা হয় এবং শিশু দুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, ছোট শিশুটির জন্মগত রোগ রয়েছে এবং বড় শিশুটির চর্মরোগ রয়েছে।

খোরশেদ আলম জানান, প্রায় ৫ থেকে ৬ মাস আগে তার স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে ঘর থেকে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় সংসারের কিছু জিনিসপত্র ও প্রায় ১৮ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ও সন্তানদের কোনো খোঁজ পাননি। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শিশুদের বাবাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, পেশায় তিনি একজন অটোরিকশা চালক। কখনো কখনো বাঁশখালীর একটি ভাঙারির দোকানেও কাজ করতেন। তার স্ত্রী তার ছোট প্রতিবন্ধী শিশুটিকে দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করাতেন। বিষয়টি তিনি জানতে পেরে বিভিন্ন জায়গায় জরিমানাও দিয়েছেন বলে জানান। শিশুদের মায়ের বাড়ি সাতকানিয়া থানাধীন মৌলভীর দোকান এলাকায় বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘ইতিমধ্যে পুলিশের মাধ্যমে শিশুগুলোর বাবার সঙ্গে আমি কথা বলেছি। তার পিতা-মাতাকে এখানে আসতে বলা হয়েছে। যেহেতু সে তার সন্তানদের নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে, সেটি আমরা পরে সিদ্ধান্ত নেব।’

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘শিশুগুলোর বাবাকে আমরা খুঁজে পেয়েছি। তাকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। শিশুগুলো বর্তমানে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ আশ্রয়দাতার কাছে রয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

এদিকে উদ্ধার হওয়া দুই শিশুকে বর্তমানে একজন সিএনজি চালকের মাধ্যমে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়েছে। এর মধ্যেই গতকাল মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক শিশু দুটির সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দেশজুড়ে আলোচিত এই ঘটনায় শিশুদের ভবিষ্যৎ ও পারিবারিক জটিলতা নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন