১৮ মার্চ ২০২৬

আনোয়ারায় সড়কের উন্নয়ন কাজে নেই ড্রেনের বরাদ্ধ, জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে গ্রামবাসী

খালেদ মনছুর, আনোয়ারা প্রতিনিধি »

আনোয়ারা উপজেলায় এশিয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ও স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে হাসপাতাল টু পেশকার হাট ডিসি সড়কের। কিন্তু কৈনপুরা গ্রামের জলদাশপাড়ার ভেতর দিয়ে যাওয়া সড়কের অংশে আরসিসির কাজ থাকলেও নেই কোনো ড্রেনের বরাদ্ধ।

আগে সড়ক বেয়েই চলে যেত লোকালয়ের পানি। এখন সমতল থেকে সড়ক অনেক উঁচু হওয়াতে এবং ড্রেনের ব্যবস্থা না থাকায় লোকালয়ে পানি আটকে গিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বৃষ্টি হলেই জমে যায় পানি। লোকালয়ে পানি জমে থেকে এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। জলাবদ্ধতায় ডুবে যাচ্ছে মানুষের বাড়ি-ঘর, উপাসনালয়সহ বিভন্ন স্থাপনা।

সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার চাতরী ইউনয়নের কৈনপুরা জলদাশ পাড়ার সামনে দিয়ে গেছে এক সময়ের আনোয়ারা উপজেলার মানুষের চট্টগ্রাম শহরে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম তৈলারদ্বীপ ফেরীঘাট টু পেশকার হাট সড়ক। দীর্ঘ কয়েক যুগ পর সংস্কার হচ্ছে এই সড়ক। এডিবির অর্থায়নে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিসি সড়কের সংস্কার কাজ করা হচ্ছে।

হাসান টেকনো বিল্ডার্স লিঃ ও এম এ এইচ কনস্ট্রাকশন লি: যৌথভাবে আনোয়ারা কর্ণফুলীতে ডিসি সড়কসহ ২১ কোটি টাকায় তিনটি কাজের দায়িত্ব পায়। তবে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, ৭ কোটি টাকার সড়কের কাজে লোকালয়ে রাখা হয়নি কোনো ড্রেনের ব্যবস্থা। এতে উন্নয়ন এখন স্থানীয় গ্রামবাসীর গলারকাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই মানুষের বাড়ির উঠানে জমে যাচ্ছে পানি। মন্দিরের সামনে পানি জমে থাকায় পুজো দিতে কষ্ট হচ্ছে পূণ্যার্থীদের। এছাড়া বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথে হাঁটু পরিমাণ পানি জমে থাকায় চলাচল করতে পারছে না লোকজন।

বিশেষ করে মহিলা, শিশু, বৃদ্ধরা পড়েছে চরম ভোগান্তিতে। এলাকার লোকজন লোকালয়ের পাশে পানি চলাচলে দ্রুত ড্রেনের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

স্থানীয় যুবক সবুজ দাশ বলেন, দীর্ঘদিন পরে হলেও ডিসি সড়কের সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় আমরা এলাকাবাসী অত্যন্ত আনন্দিত। কিন্তু এত বড় বাজেটের একটি কাজে লোকালয়ে ড্রেনের ব্যবস্থা না থাকায় আমরা এখন জলাবদ্ধতায় ভুগছি।

রুপন দাশ বলেন, আগে সড়কের পাশ দিয়ে পানি বিলে চলে যেত। এখন সমতল থেকে সড়ক অনেক উঁচু করা হচ্ছে। কিন্তু ড্রেনের ব্যবস্থা না থাকায় লোকালয়ের পানিগুলো কোথায় যাবে সেই চিন্তা কেউ করছে না।

ডিসি সড়কের ঠিকাদার মো. শাফয়াত বলেন, আমাদের শিডিউলেতো ড্রেনের কথা নেই। তবে কৈণপুরা জলদাশপাড়ায় আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী তাসলিমা জাহান বলেন, আমরা যেভাবে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি সেভাবে বরাদ্ধ এসেছে। এখানে ড্রেনের জন্য কোনো প্রস্তাবনা পাঠানো হয়নি। কৈনপুরা এলাকায় তিনশ ফুটের মত আরসিসি ঢালইয়ের কাজ করা হবে।

বাংলাধারা/এফএস/এআই

আরও পড়ুন