খালেদ মনছুর, আনোয়ারা»
আনোয়ারা উপকূলে শুটকি তৈরির ধুম পড়েছে। সাগর ঘেঁষে উপকূলে বাঁশ দিয়ে মাচাং তৈরি করে চলছে শুটকি শুকানোর কাজ। অনেকে আবার সাগরের মধ্যে মাছ ধরার নৌকায় শুকাচ্ছেন শুটকি। আর এসব শুটকি চট্টগ্রামের শুটকির পাইকারী বাজার আছাদগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারী বিক্রয় করা হয়। তবে স্থানীয়ভাবে খুচরাও বিক্রি হয় প্রচুর।
দাম কম আর টাটকা শুটকির জন্য উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন শুটকি কিনতে ভীড় করেন উপকূলের শুটকি পল্লীতে। বাঁশখালীর মাছ ধরার ট্রলার থেকে কাঁচা মাছ কিনে এনে এসব শুটকি আনোয়ারা উপকূলে শুকানো হয় বলে জানিয়েছেন মৎস্যজীবিরা। তবে স্থানীয় শ্রমিকদের মজুরি বেশি হওয়ায় বাহির থেকে শ্রমিক এনে কাজ করাতে হওয়ায় লাভের সংখ্যা কম বলে জানিয়েছেন তারা। এর ফলে ব্যাপক সম্ভাবনা থাকার পরও শ্রমিক সংকটে আনোয়ারা উপকূলে বিকশিত হচ্ছেনা শুটকি ব্যবসা।
চট্টগ্রামসহ সারাদেশে শুটকির চাহিদা ব্যাপক। দেশের সবচেয়ে বড় শুটকির বাজার চট্টগ্রামের আছাদগঞ্জে। সেখান থেকে সারাদেশের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয় শুটকি। আর চট্টগ্রামের অতি সন্নিকটে আনোয়ারা উপজেলার অবস্থান। এখানে রয়েছে সামুদ্রিক মাছের ব্যাপক উৎস। আনোয়ারা উপকূলে তাই একটি মানসম্মত, আধুনিক শুটকি পল্লী গড়ে তুলতে পারলে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

সরেজমিন দেখা যায়, আনোয়ারা উপকূলীয় গহিরা বাছা মিয়া মাঝিরঘাট এলাকায় ইসমাইল নামের একজন মৎস্যজীবি মাচাং থেকে শুটকি তুলে বাছাই করে পরিবহণের জন্য প্রস্তুত করছিলেন। তাকে সহযোগিতা করছিলেন আরো একজন। মাচাংয়ে টাঙ্গানো আছে আরো অনেক শুটকি। তাছাড়া চাটাই বিছিয়ে শুকানো হচ্ছে ফাইস্সা শুটকি।
ইসমাইলের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা ছয়জন মিলে এ মৌসুমে শুটকি শুকানোর ব্যবসায় নেমেছেন। বড় সাইজের প্রতি কেজি শুটকি ১ হাজার টাকায় পাইকারী দরে বিক্রি হয়। মাঝারি সাইজের এক কেজি শুটকি ৮০০ টাকা। যা, পাইকাররা দেড় হাজার থেকে দুই হাজর পর্যন্ত বিক্রি করেন। সপ্তাহে একদিন চট্টগ্রাম শহর থেকে পাইকাররা এসে শুটকি নিয়ে যায়। একবারে ১৫ থেকে ১৬ টন পর্যন্ত শুটকি সরবরাহ দেয়া হয়। সব খরচ বাদ দিয়ে এক চালানে এ লক্ষ টাকা লাভ হয়।

অন্যদিকে স্থানীয় অনেক মৎস্যজীবি সাগরের মধ্যে মাছ ধরার নৌকাতেই শুটকি শুকান। তারা ছুরি শুটকির পাশাপাশি লইট্টা, ফাইস্সাসহ আরো নানান প্রকারের শুটকি শুকান। এদের বেশিরভাগই আবার স্থানীয়ভাবে খুচরা বাজারে বিক্রি করা হয়। টাটকা সাগর থেকে তুলে নৌকার মধ্যে শুকানোর ফলে এসব শুটকি খুব সুস্বাদু আর মানও থাকে ভাল। এজণ্য, আনোয়ারার গহিরার শুটকির বিষয়ে পাইকারদের কাছে আলাদা একটা কদর রয়েছে। তবে, সরকারি বেসরকারি আরো সহায়তা পেলে আনোয়ারা উপকূলে শুটকির ব্যবসা আরো ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্যজীবিরা। এতেকরে উপকূলীয় লোকজনের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অর্থনৈতিক অবস্থাও পরিবর্তন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ।
স্থানীয় মৎস্যজীবি মো. হারুন বলেন, এখানে বড় ঘাট না থাকায় মাছ ধরার ট্রলার ভিড়েনা। যার ফলে আমাদের বাঁশখালী ও চট্টগ্রাম ফিশারি ঘাট থেকে এনে শুটকি শুকাতে হয়। তার উপর স্তানীয় শ্রমিকদের মজুরি বেশি। সরকার এখানে নজর দিলে একটি মানসম্পন্ন শুটকি পল্লী গড়ে তোলা সম্ভব।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. রাশিদুল হক বলেন, আনোয়ারা উপকূলে শুটকি শুকানোর যে কর্মকান্ড তা নানা সীমাবদ্ধতার অভাবে বিকশিত হচ্ছেনা। সরকারিভাবে আমাদের সহায়তার পরিমাণ সামান্য। তারপরও আমরা তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে অর্গানিক পদ্ধতিতে স্বাস্থ্যসম্মত শুটকি তৈরি করতে উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করব।
বাংলাধারা/এফএস/এফএস












