খালেদ মনছুর, আনোয়ারা প্রতিনিধি »
আনোয়ারা উপকূলে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে ইলিশ। উপকূল জুড়ে চলছে উৎসবের আমেজ। তবে এবার মাছের আকার ছোট। তারপরও খুশি জেলেরা।
সকাল থেকে গভীর রাত অবধি কয়েক দফা আসছে মাছ। তীরে উঠে চলছে হাঁকডাক। তারপর পাইকাররা কিনে নিয়ে চলছে বরফাবৃত করে প্যাকেজিং। এরপর ট্রাকে করে চট্টগ্রামসহ দেশের নানা স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে গহিরার বিখ্যাত স্বাদের সেই ইলিশ।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার আনোয়ারা উপকূলের রায়পুর ইউনিয়নের গহিরা ইঠান মাঝির ঘাট এলাকায় গিয়ে এই চিত্র দেখা যায়।

আল্লাহর দান বোটের মালিক মো. ফারুক বলেন, আমরা সারা বছর বসে থাকি এই একটি মৌসুমের জন্য। একজন বোট মালিকের এক মৌসুমে খরচ বাদ দিয়ে দুই তিন লাখ টাকা লাভ হয়। এবার জুলাই মাস থেকে শুরু হয়েছে মৌসুম। এবার দেরীতে মাছ আসছে জালে। এবারের মাছের আকারও ছোট। তবে গত কয়েক জোয়ার থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে ইলিশ। আকার ছোট হলেও খুশি জেলেরা।
জানা যায়, সাগরে ছোট বড় দুই ধরণের ইঞ্জিন চালিত বোট দিয়ে মাছ ধরে জেলেরা। আনোয়ারা উপকূলের ফকিরহাট, ঘাটকুল এলাকার জেলেরা মাছ ধরে বড় বোট দিয়ে । আর বার আউলিয়া, উঠান মাঝির ঘাট এলাকার জেলেরা ছোট ছোট বোট দিয়ে মাছ ধরে। আনোয়ারা উপকূলে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় সহস্রাধিক মাছ ধরার বোট রয়েছে। ইলিশের মৌসুমে এখন সকল বোট মালিকরা ব্যস্ত সময় পার করছে। দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের।
সরজমিনে উঠান মাঝির ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সাগর থেকে একের পর এক ছোট ছোট ইঞ্জিনচালিত বোট ইলিশ মাছ নিয়ে উপকূলে ভীড়ছে। আর তীরে ঠেলা গাড়িতে খাঁচা নিয়ে বসে আছে আর কিছু লোক। বোটের লোকেরা সাগর থেকে আনা মাছ ঠেলা গাড়িতে রাখা খাঁচায় রাখছে। সেখান থেকে উঠছে নিলামে। নিলামের পর পাইকাররা মাছে বরফ দিয়ে প্যাকেজিং করে ভরছে ট্রাকে। তারপর মাছগুরো চলে যাচ্ছে চট্টগ্রামের ফিশরীঘাট ও ঢাকার যাত্রাবাড়ীর আড়তে।
পাইকারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বড় এক থেকে দেড় কেজি ওজনের প্রতিমণ ইলিশ দাম পড়ে ৩৫-৩৬ হাজার টাকা। যা কেজিতে নয়শ টাকা। মাঝারি সাইজের এক কেজির নীচে প্রতিমণ ইলশের দাম পড়ে ১৪-১৫ হাজার টাকা। ছোট সাইজের প্রতিমণ ইলিশের দাম পড়ে আট হাজার টাকা।
এদিকে সস্তা ও টাটকা ইলিশ পাওয়ার আশায় উপকূলে ভীড় করছে প্রচুর খুচরা ক্রেতাও। তারা পাইকারদের কাছ থেকে দরদাম করে কিনছে নানা সাইজের ইলিশ। একেকটি ইলশের ঝাঁকা নিয়ে পাইকাররা আসলে সেখানে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। তবে এক্ষেত্রে পাইকাররা সুযোগ বুঝে অনেকের কাছ থেকে বাজার দরে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিন শরীফ বলেন, উপকূলের শত শত জেলে সারা বছর বসে থাকে এই ইলিশের মৌসুমের জন্য। তিন মাসের আয় দিয়ে অনেকে সারা বছর চলে। এবার জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। ফলে সাইজ ছোট হলেও জেলেরা খুশি।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রশিদুল হক বলেন, দীর্ঘদিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকার পর জেলেরা সাগরে মাছ ধরা শুরু করেছে। এবার আনোয়ারা উপকূলে একটু দেরীতে ধরা পড়েছে ইলিশ। মাছের আকারও ছোট। তবে জাটকা যাতে না ধরে সে ব্যাপারে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে।
বাংলাধারা/এফএস/এআই












