১৩ মার্চ ২০২৬

আনোয়ারা স্বস্থ্য কমপ্লেক্সে এক সপ্তাহ ধরে চলছেনা সরকারি এ্যাম্বুলেন্স

আনোয়ারা প্রতিনিধি»

আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স্রে এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে সরকারি এ্যাম্বুলেন্স চলাচল। জ্বালানি খরচ নিয়ে চালক-হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দ্বন্ধে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে হাসপাতাল কতৃপক্ষ ও চালকের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, এর আগেও আনোয়ারায় কর্মরত ছিলেন চালক জাহাঙ্গীর আলম।  সেসময় বিভিন্ন অনিয়মের কারণে তাকে বদলি করা হয়। করোণার সময় সরকারি এ্যাম্বুলেন্স দিয়ে যাত্রী পরিবহণের দায়ে  এ্যাম্বুলেন্স চালক বদলি হলে জাহাঙ্গীর আলম গত ৫ আগষ্ট আনোয়ারা হাসপাতালে আবারো যোগদান করেন।  যোগদানের পর থেকেই   রোগী পরিবহনে নানা তালবাহানা করে আসছে এই চালক।   নানা অজুহাতে রোগী পরিবহনে অনীহা প্রকাশ করে আসছেন। আগের চালকরা যেখানে প্রতি মাসে ১০৫ জন রোগী পরিবহন করতেন সেখানে চালক জাহাঙ্গীর আলম করেছেন মাত্র ৩৪ জন।

হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, চমেক হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী পরিবহণ সরকারি এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া ৪৬০ টাকা। চালক রোগীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে সেই টাকায় তেল কিনে  রোগী পরিবহণ করেন। মাস শেষে বরাদ্ধ আসলে ভাউচার দিয়ে টাকা সমন্বয় করেন। এইভাবেই চলে আসছে  দীর্ঘদিন থেকে। কিন্তু চালক জাহাঙ্গীর যোগদানের পর থেকে অগ্রিম জ্বালানি খরচ দাবী করায় বিপত্তি বাধে।

এ বিষয়ে হাসপাতাল কতৃপক্ষ তিন দফা চালক জাহাঙ্গীরকে শোকজ করে। ফলে  স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তার সাথে  চালক জাহাঙ্গীরের বাদানুবাদ হয়। এর জের ধরে চালক জাহাঙ্গীর স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা আবু জাহিদ মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনকে উকিল নোটিশ পাঠায়।  তবে, এতকিছুর পরও চালক জাহাঙ্গীরের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ  কোনো প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করছেননা বলে অভিযোগ কর্তৃপক্ষের।

জানা যায়, আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুটি এ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। তারপরও রোগীরা সরকারি এ্যাম্বুলেন্সের সেবা পাচ্ছেনা। বাধ্য হয়েই  রোগীরা বাড়তি টাকা দিয়ে বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী আনানেয়া করছেন।

 রোগীর স্বজন মোহাম্মদ আলী বলেন, আমি আমার ভাগ্নিকে নিয়ে চমেক হাসপাতালে নিতে সরকারি  এ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে ২ হাজার টাকায় বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেছি। কী করব! রোগীতো বাঁচাতে হবে।

এ ব্যাপারে চালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভাড়ার টাকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়ে নেয়। আমাকে তেলের টাকা না দিলে আমি গাড়ী চালাবনা।

জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা আবু জাহিদ মো. সাইফুদ্দিন  বলেন, চালকের ব্যাপারে আমরা লিখিতভাবে সিভিল সার্জন বরাবর জানিয়েছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে যথাযত  ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বাংলাধারা/এফএস/এফএস

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ