যে খাবার মানুষ পরিবারের সদস্যদের জন্য নিশ্চিন্তে কিনে নিয়ে যান, সেই খাবার তৈরির কারখানাতেই মিলেছে বিষাক্ত প্লাস্টিকজাতীয় উপাদান। চানাচুর ও চিড়া ভাজা হয়েছে ক্যানসার সৃষ্টিকারী পোড়াতেলে, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকার পাশেই স্তূপ করে রাখা হয়েছে বর্জ্য।
এমন চিত্র দেখে বিস্মিত হয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারকও। নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘন করে জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলার অভিযোগে দেশের শীর্ষস্থানীয় খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের ফুড অ্যান্ড বেভারেজকে ১৬ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত।
শনিবার (২০ জুন) চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকায় পরিচালিত বিশেষ সংক্ষিপ্ত বিচারিক অভিযানে এ জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম মহানগরের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফা।
অভিযানকালে আবুল খায়ের ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানায় গিয়ে বিচারক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খাদ্যদ্রব্য প্রক্রিয়াকরণে বিষাক্ত প্লাস্টিকজাতীয় উপাদানের উপস্থিতি দেখতে পান। এছাড়া চানাচুর, চিড়া ও বুট ভাজার কাজে ড্রামভর্তি ক্ষতিকর পোড়াতেল ব্যবহার, প্রক্রিয়াকরণ জোনে অপরিচ্ছন্নভাবে বর্জ্য পদার্থ জমিয়ে রাখা, খাদ্যপণ্যের মোড়কে বিভ্রান্তিকর তথ্য সংযোজন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ম্যাংগো ফ্রুট পাল্প সংরক্ষণ এবং কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি না মানার মতো একাধিক অনিয়ম ধরা পড়ে। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ১৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
একই অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, পোকামাকড়ের অবাধ বিচরণ, নিম্নমানের উপাদান ব্যবহার এবং মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণের দায়ে মধুবন সুইটস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া নোংরা পরিবেশে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও নিয়মবহির্ভূতভাবে পণ্য সংরক্ষণের অভিযোগে ময়মনসিংহ অ্যাগ্রোকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জেলা কার্যালয়ের খাদ্য অফিসার মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম বলেন, ‘কারখানার বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। পরিদর্শনের সময় খাদ্যদ্রব্য প্রক্রিয়াকরণে বিষাক্ত পদার্থ (প্লাস্টিক) ব্যবহারের উপস্থিতি, চানাচুর, চিড়া ও বুট উৎপাদনে পোড়াতেলের ব্যবহার এবং উৎপাদন এলাকায় বর্জ্য পদার্থ সংরক্ষণের মতো অনিয়ম ধরা পড়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়া খাদ্যদ্রব্যের মোড়কীকরণে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ না করা, মোড়কে বিভ্রান্তিকর তথ্য সংযোজন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ম্যাংগো ফ্রুট পাল্প সংরক্ষণ, পরিবহন ও প্রক্রিয়াকরণ এবং খাদ্য উৎপাদনে নিয়োজিত কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করার ঘটনাও পাওয়া যায়। এসব অনিয়ম নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার পরিপন্থি। তাই প্রচলিত আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ১৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’














