দেবাশীষ বড়ুয়া রাজু »
চলছে আমন মৌসুম। চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার প্রায় জমিতে দুলছে এখন আমনের সোনালী শীষ। মন জুড়ানো এ ধানে স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা। ক’দিন পরে পুরোদমে শুরু হবে আমন ধান ঘরে তোলার পালা। চলবে কাটা-মাড়াইয়ের কাজ।
প্রাকৃতিক আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে এবার আমনের ভালো ফলন হয়েছে বোয়ালখালীতে। ইতিমধ্যে কয়েকটি এলাকায় আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়ে গেছে।
চলতি মৌসুমে বোয়ালখালীতে আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৪ হাজার ৫শত ৫০হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আমনের চাষাবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৮শত ৫০হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০হাজার ৫ শত মেট্রিক টন। গড় ফলন (ধানে) ৪ দশমিক ৫মেট্রিক টন। আশানুরূপ ফলনের চেয়েও ভাল ধান হওয়ায় লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান।
কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে নিজস্ব ৩বিঘা জমিতে আপন উদ্যোগে আমন আবাদ করেছেন উপজেলার পোপাদিয়া ইউনিয়নের কৃষক এস এম মোদ্দাচ্ছের। তিনি জানান, সময় মতো বৃষ্টি ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় খুব ভালো ধান হয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যা ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে পোকার আক্রমণ তেমন একটা হয়নি। তাই আশা করছি খরচ পুষিয়ে লাভবান হবো।
শ্রীপুর- খরণদ্বীপ ইউনিয়নের কৃষক মো. ইসহাক ও মুন্সি মিয়া জানান, অন্যান্য বছরের চাইতে এ বছর আমনের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। সময় মতো বৃষ্টি হওয়ায় রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ থেকে অনেকটা রক্ষা পেলেও বে-কায়দায় ফেলেছে ইঁদুরের উপদ্রপ। জমিতে পানি শুকিয়ে যাওয়ায় ইঁদুরের উপদ্রপ বেড়ে গেছে। ধান তো কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে সাথে ধানের গাছসহ কেটে দিচ্ছে। তাই ইঁদুরের উপদ্রপ থেকে রক্ষা পেতে কৃষি অফিসের সহযোগীতা কামনা করেছেন তারা। একই কথা জানালেন আমুচিয়া ইউনিয়নের কৃষক মাহাবুব আলম, কড়লডেঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক মো. দেলোয়ার হোসেন ও পৌরসভার কৃষক মফিজুর রহমান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে হাজার হাজার হেক্টর জমি অনাবাদী রয়ে গেছে দীর্ঘ দিন ধরে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এসব এলাকার কৃষকরা। তারা জানান, জলাবদ্ধতা নিরসন করে পতিত জমিগুলি চাষের আওতায় আনতে পৌরসভার মেয়রসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে মৌখিক ও লিখিতভাবে অনেকবার বলেছি। কিছুতেই কিছু হয়নি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আতিক উল্লাহ্ বলেন, সময় মতো বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় বোয়ালখালীতে আমন চাষে কোথাও কোন সমস্যা হয়নি। এবার উপজেলায় উফশী জাতের ব্রি ধান ৪৯, ৫১, ৫২, ৭৫ ও স্থানীয় জাতের ভারতীয় পাইজাম, চিকন ধানের জাত কৃষকদের দেয়া হয়েছে। আমনের চাষাবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ফলনও এসেছে আশানুরূপ। আমন ধানকে রোগ বালাই ও পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে উপ- সহকারি কৃষি কর্মকর্তাগণ সার্বক্ষণিক মাঠে কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করছেন। তাছাড়া কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাঠ দিবস, দলীয় আলোচনা, উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সপ্তাহখানিক পর থেকে ধান কাটা শুরু হবে।
তিনি বলেন, স্থায়ী জলাবদ্ধতা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকা, কৃষি জমির উপর অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ, কৃষকের অনাগ্রহ ও জোয়ারের পানি উঠা নামার যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় বোয়ালখালীতে প্রায় ২হাজার ২শত হেক্টর জমি অনাবাদী হয়ে গেছে। পৌরসভা, পশ্চিম গোমদন্ডী, শাকপুরা, কধুরখীল ও চরণদ্বীপ ইউনিয়নে অনাবাদী জমি বেশী।
এক্ষত্রে বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও বিশেষ স্লুইচ গেইট স্থাপন করে জমিগুলো চাষের আওতায় আনতে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলে আরো লাভবান হবে কৃষকরা।
বাংলাধারা/এফএস/এআর












