৩০ মার্চ ২০২৬

আ’লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নির্দেশও প্রত্যাখ্যান করলো স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে যারা পাননি তাদেরকে দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ নেতারা। কিন্তু জ্যেষ্ঠ নেতাদের কথা অমান্য করে স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা বাইরে হট্টগোল, ক্ষোভ আর স্লোগান শুরু করলে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের নমনীয় করতে জ্যেষ্ঠ নেতাদের চেষ্টা কার্যত ব্যর্থ হয়। পরে জ্যেষ্ঠ নেতারা আগামী ৮ মার্চ দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এবং বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন আসবেন। সেদিনও কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনার আশ্বাসে সভা শেষ হয়।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১১টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত নগরীর থিয়েটার ইন্সটিটিউটে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়া দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্ত ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে জ্যেষ্ঠ নেতারা আলোচনায় বসেন।

অনুষ্ঠিত সভায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচনের সমন্বয়কের দায়িত্বপালনকারী সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মনোনয়ন বোর্ড যে মনোনয়ন দিয়েছেন সেটাকেই আমরা ফলো করব। মুজিববর্ষে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং সব কাউন্সিলর পদ আওয়ামী লীগকে উপহার দেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান মোশাররফ।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ ছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, সাংসদ এম এ লতিফ, নগর কমিটির সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, নগর কমিটির সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, নঈম উদ্দিন চৌধুরী, ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল ও আলতাফ হোসেন বাচ্চু, মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন, নগর কমিটির কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য চন্দন ধর, মশিউর রহমান ও প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক প্রমুখ।

বৈঠক শেষে আ জ ম নাছির উদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগের যারা প্রার্থী হতে ইচ্ছা প্রকাশ করে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন, তাদের সাথে আমাদের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোশাররফ ভাইসহ আমরা বসেছি। উনাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি। তাদের বলেছি- দল মানে নীতি আর্দশ। তাই মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। সাময়িক পাওয়া-না পাওয়াকে বিবেচনায় না নিয়ে দলের সিদ্ধান্ত মেনে রাজনীতি করাই একজন প্রকৃত রাজনৈতিক কর্মীর কাজ। দল যাদের মনোনয়ন দিয়েছে, তাদের মেনে নিতে হবে। তাদের জিতিয়ে আনতে হবে। দলকে এগিয়ে নিতে হবে।

নগর কমিটির সহ-সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল বলেন, যারা (বিদ্রোহী) আছেন তাদের প্রত্যাহার করে নিতে। আশা করি তারা আহ্বানে সাড়া দেবেন।

উল্লেখ্য, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। নগরীর ৪১ ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২২০ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। পরে বাতিল হয়েছে ৯ জনের। তিনটি ওয়ার্ড ছাড়া বাকি প্রতিটি ওয়ার্ডেই আওয়ামী লীগের দুই-তিন জন করে বিদ্রোহী আছেন। ১৪টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের প্রতিটিতেও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত বর্তমান কাউন্সিলরদের মধ্যে এবার ১৯ জন দলের সমর্থন পাননি। তাদের মধ্যে ১৮ জনই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

আরও পড়ুন