১৭ মার্চ ২০২৬

আশ্রয়কেন্দ্রকে পুঁজি করে অর্থ আত্মসাৎ

মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক »

চট্টগ্রামে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র ‘উপলব্ধি’। কোতয়ালী থানাধীন ফিরিঙ্গিবাজার এলাকায় এর অবস্থান। এ আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছে হতদরিদ্র শিশুদের নানা অভাবের ভিন্ন ভিন্ন ছবি। যেসব ছবি দেখলে কারো চোখের পানি ঝরে আবার কেউ কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। সাধারণ ও মানবিক মানুষের দুর্বলতাকে পূঁজি করে একটি সিন্ডিকেট নিজেদের আখের গোছানোর অপচেষ্টা করেছে।

সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ দাখিল হয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী থানায়। এ অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রটির নাম ব্যবহার করে প্রবাসীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়া। অসহায় শ্রেণীকে পূঁজি করে প্রতারণা করা ও আশ্রয়কেন্দের বিভিন্ন ছবি ব্যবহার করে দরিদ্র শ্রেণীর দারিদ্রতাকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করায় অবশেষে সাইবার ক্রাইমের বিষয়টি আমলে নিয়েছে পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের সাইবার ক্রাইম তদন্ত করেছে সিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। তদন্ত অনুযায়ী, যেসব লিঙ্ক ব্যবহার করে সাইবার অপরাধ করা হয়েছে সেগুলো সম্পূর্ণরূপে মিলে গেছে। ফলে চট্টগ্রাম আদালতের সাইবার ট্রাইবুনালে এ মামলার বিচার কার্য সম্পাদনের কথা রয়েছে।

সিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ডিজিটাল প্রতারণার কারণে রফিকুল ইসলাম নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। সাইবার ক্রাইম আইনে মামলা (নং-৩৫ তারিখ: ২১/২/২০২১) কোতয়ালী থানায় দায়ের হয় গত বছরের ২১ ডিসেম্বর। মাত্র ২০ দিনের মধ্যে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট এ মামলার তদন্ত শেষে শফিকুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পেয়েছে। গত ১০ জানুয়ারি কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক সঞ্জয় কুমার সিনহার নের্তৃত্বে একটি টিম শফিকুলকে কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার রায়পুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রিফা ব্রডব্যান্ড নামক একটি ইন্টারনেট প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠান থেকে আটক করে কোতয়ালী থানায় সোপর্দ করেছে পুলিশ। শফিকুলের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার অম্বরপুর গ্রামে আব্দুল জলিলের বাড়ি। তার বাবার নাম মৃত-আব্দুর রহিম।

কাউন্টার টেররিজমের পরিদর্শক সঞ্জয় কুমার বাংলাধারা প্রতিবেদককে বলেন, মামলার ভিত্তিতে সাইবার ক্রাইমের বিষয়টি তদন্তে উঠে আসে। দীর্ঘদিন ধরে শফিকুল উপলব্ধি নামের আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন ছবি কালেকশন করে প্রবাসীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেছে। সুবিধা বঞ্চিতদের প্রাপ্য প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছে। ১০ জানুয়ারি তাকে আটক করে কোতয়ালী থানার মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

কাউন্টার টেররিজম দফতর সূত্রে আরও জানা গেছে, শফিকুল কোতোয়ালীর ফিরিঙ্গীবাজারস্থ ‘উপলব্ধি’ আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায়ই যাওয়া আসা করত। ফেইসবুক ও বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তিদের নিকট আর্থিক সহায়তা চেয়ে ম্যাসেজ পাঠাতো। বিকাশ ও ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে আশ্রয়কেন্দ্রের জন্য টাকা কালেকশন করতো।

আটকের পর শফিকুল স্বীকার করেছে, পেশায় সে একজন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রতিষ্ঠানে কাজ করে। সে দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকা ও মালয়েশিয়া থেকে বিভিন্নভাবে আশ্রয়কেন্দ্রের দৈনদশা তুলে ধরে প্রবাসীদের কাছ থেকে অনুদান বা আর্থিক সহায়তা নিয়ে আসছিল। আশ্রয়কেন্দ্রের বিভিন্ন ছবি পোস্ট দিয়ে মানবিকতার আবেদন করলেই প্রবাসীরা শফিকুলের বিকাশ বা ব্যাংক একাউন্ট নম্বর দিতে বলতো। সেই থেকে বিভিন্নভাবে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল।

আরও পড়ুন