জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার»
অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার অষ্টম দফার প্রথম দিনে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরার উত্তর দিচ্ছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও র্যাব-১৫ কক্সবাজারের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. খাইরুল ইসলাম। সোমবার (২৯ নভেম্বর) বেলা সোয়া ১০টায় কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরা মুখোমুখি হন তিনি। ১৫ আসামীর মাঝে সোমবার মিলিয়ে ১৪ আসামীর আইনজীবীরা জেরা সমাপ্ত করতে পারলেও মামলার অন্যতম আসামী ওসি প্রদীপের পক্ষে জেরা করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) ওসি প্রদীপের পক্ষে তার আইনজীবী মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করবেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পিপি ফরিদুল আলম।
এর আগে সপ্তম দফার শেষ দিনের সাক্ষ্যে একই আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খাইরুল ইসলামের সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরার অংশবিশেষ সম্পন্ন হয়েছিল। সোমবার মুলতবি জেরা শুরুর মধ্য দিয়ে আদালত কার্যক্রম আরম্ভ করে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পিপি ফরিদুল আলম বলেন, মামলার চলমান বিচারকার্যের সপ্তম দফার শেস দিনে ১৭ নভেম্বর একই আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খাইরুল ইসলামের সাক্ষ্য গ্রহণ জেরার অংশবিশেষ সম্পন্ন হয়েছিল। সোমবার আসামিপক্ষের অন্তত ১৩ আইনজীবী জেরা শুরু করেন। একেক আসামীর পক্ষে স্ব স্ব আইনজীবী জেরা করায় সময় ক্ষেপন হয়েছে বেশি। ফলে ওসি প্রদীপের আইনজীবীর জেরা এখানো বাকি রয়েছে। মঙ্গলবার ওসি প্রদীপের আইনজীবীরা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করবেন বলে জানান তিনি।
জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে এ মামলায় এর আগে সাত দফায় মামলার ৮৩ সাক্ষীর মধ্যে ৬৫ জনের সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার সকালে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার সময় সিনহা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ১৫ আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জেলা কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে ১৫ আসামিকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। অষ্টম দফায় আগামী ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সাক্ষ্য গ্রহণ চলবে।
আদালত সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা মো. রাশেদ খান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি (টেকনাফে দুটি ও রামুতে একটি) মামলা করে। ঘটনার পাঁচ দিন পরে ৫ আগস্ট কক্সবাজারের আদালতে টেকনাফ থানার বহিষ্কৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।
২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে তদন্ত কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র দেন। অতিদ্রুত মামলার বিচারকার্য সম্পন্নের কার্যক্রম চলছে।
বাংলাধারা/এফএস












