বাংলাধারা প্রতিবেদন »
শতাব্দী কাল ধরে বসবাস করে আসা মনাই ত্রিপুরা পাড়ার বাসিন্দাদের জন্য প্রথমবারের মত নির্মিত স্কুলে আনুষ্ঠানিক পাঠদান শুরু হয়েছে আজ। জাতীয় পতাকাকে সম্মান জানানোর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আজকের পাঠদান শুরু হয়। স্কুল নির্মান থেকে শুরু করে পাঠদান শুরু করার সকল কাজ হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়।
আরও পড়ুন: রাস্তার পর স্কুলও পাচ্ছে মনাই ত্রিপুরা পাড়া
মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সকালে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন উপস্থিত হয়ে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।
রুহুল আমিন বাংলাধারাকে বলেন, মনাই ত্রিপুরা পাড়ার শিশুরা যাতে লেখাপড়া করতে পারে তাই বিদ্যালয়টি করার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। বিদ্যালয়টি করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বরাবর অর্থ বরাদ্দ চেয়ে পত্র দিয়েছিলাম। সেখান থেকে তিন লাখ টাকা পেয়েছি। এক সময় দুর্গম বলে পরিচিত মনাই ত্রিপুরা পাড়ার বাচ্চাদের শিক্ষার মূলস্রোতে আনার জন্য উপজেলা প্রশাসন আরও কিছু কাজ করবে। ইতিহাসের অংশ হয়ে রইলো আজকের কার্যক্রম। পর্যায়ক্রমে এই স্কুলের কার্যক্রম আরো সামনের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।
তিনি বলেন, এটি একটি প্রাক-প্রাইমারি বিদ্যালয়। এখান থেকে প্রাইমারি স্কুলে যাবে শিশুরা। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে একজন শিক্ষক ও ২৬ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে।
উল্লেখ্য, হাটহাজারী উপজেলার মনাই ত্রিপুরা পাড়া ছিল একটি দূর্গম এলাকা। এক সময় কাঁধে করে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হতো রোগীদের। মনাই ত্রিপুরা পাড়ার বাসিন্দাদের এই দুর্দশার কথা জানতে পেরে রাস্তা নির্মানের উদ্যোগ নেয় হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন।
গত মে মাসেই শেষ হয়েছে রাস্তা নির্মানের কাজ। রাস্তার পর এবার প্রশাসনের উদ্যোগে সেখানে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য নির্মিত হয় বিদ্যালয়। এখানে বাংলা, ইংরেজি এবং গনিতের পাশাপাশি দেয়া হবে ধর্মীয় শিক্ষা।
বাংলাধারা/এফএস/এমআর/টিএম












