১৫ মার্চ ২০২৬

ইউএসটিসি’র আন্দোলনরত কর্মচারী ইউনিয়নের চার সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা

তারেক মাহমুদ »

নিয়ম বর্হিভূতভাবে বদলি করার প্রতিবাদ করায় আন্দোলনরত কর্মচারি ইউনিয়নের চার সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নগরীর খুলশী থানাধীন ইউএসটিসির অধীনে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ইউএসটিসি) কর্তৃপক্ষের হয়ে গত ১৯ জুন মামলাটি করেন, হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. কামরুল ইসলাম।

মামলায় আসামি করা হয়, চন্দনাইশের মোহাম্মদপুর খাজান বাড়ীর নুরুল ইসলামের ছেলে মো. সোহেল (৩৭), কুমিল্লার নেয়ামতপুরের মো. তৈয়ব আলীর ছেলে মো. মানিক মিঞা (৫৬), চন্দনাইশের হারুণ মেম্বারের বাড়ির মৃত ছিদ্দিক আহমেদের ছেলে মো. সোলাইমান (৪৫) ও চন্দনাইশের কাজী বাড়ির মৃত আমিনুর রহমানের ছেলে মো. আজিজুর রহমানকে (৪৩)।

প্রসঙ্গত, করোনাকালীন দূর্যোগে বিনা নোটিশে ১৯ নার্সসহ মোট ৩৪ জনকে চাকরিচ্যুত গত ২৫ এপ্রিল থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারীরা। গত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারীরা।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, এতদিন ধরে চাকুরি করে আসছি। হঠাৎ করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনা দেখিয়ে আমাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। নিজেদের অনিয়ম দুর্নীতি ঢাকতে ইচ্ছাকৃত ভাবে আমাদের চাকরিচ্যুত করেছে। এতগুলো মানুষকে চাকরিচ্যুত করার আগে আমাদের পরিবারের কথাও একবার চিন্তা করেনি তারা। এ অবস্থায় আমাদের আন্দোলন ছাড়া আর কোন পথ খোলা ছিল না।

ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ইউএসটিসি) কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. মানিক মিয়া বাংলাধারাকে বলেন, ৩৪ জনকে চাকরিচ্যুত এবং ১৭ জনকে নিয়ম বর্হিভূতভাবে বদলি করার প্রতিবাদে আমরা আন্দোলনের ডাক দিয়েছি। আমাদের আন্দোলনের পরও এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ থেকে কেউ যোগাযোগ করেনি।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনা দেখিয়ে ১৯ নার্সকে চাকরিচ্যুত করেছে। কিন্তু ১৫ জন আয়া এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে কেন চাকরিচ্যুত করা হলো তার কোন জবাব নেই কর্তৃপক্ষের কাছে। এতেই বুঝা যায় কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাদের চাকরিচ্যুত করছে। এছাড়া এ প্রতিষ্ঠানের আরও অনেক কর্মচারীকে পদোন্নতি না দিয়ে উল্টো পদাবনতি দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বদলি করেছে। যা খবুই অমানবিক।

তিনি আরো বলেন, গত তিন মাস ধরে চাকরি নাই, আমাদের পেটে ঠিকমতো ভাত নাই। তার উপর মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছে কর্তৃপক্ষ। আমরা রাস্তায় অর্থাৎ মেইন রোডে এসে কোন প্রকার আন্দোলন করি নাই। আমরা আমাদের ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থান করে আন্দোলন করেছি।

এ ব্যাপারে জানতে ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ইউএসটিসি)’র অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. কামরুল হাসানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৮ এপ্রিল ১৯ জন নার্স এবং ১৫ জন আয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রতিষ্ঠানটি। এমনকি মাস শেষ হলেও তাদের বেতন আটকে দেয় কর্তৃপক্ষ। যদিও পরে বেতন পরিশোধ করে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ