দীর্ঘ এক বছর দুই মাসের বেশি সময় পর হাইকোর্টের নির্দেশে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ৬ নম্বর বারখাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ ফিরে পেয়েছেন মো. হাসনাইন জলিল চৌধুরী শাকিল।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ১ এপ্রিল থেকে তার হাতে পুনরায় প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ৪৫৮/২০২৬-এর প্রেক্ষিতে এই আদেশ আসে। জানা যায়, সংবিধানের ১০২(২)(ক) অনুচ্ছেদের অধীনে আবেদন করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জারি করা ১৯ আগস্ট ২০২৪ ও ২৯ জানুয়ারি ২০২৫ সালের দুটি আদেশ চ্যালেঞ্জ করেন চেয়ারম্যান হাসনাইন জলিল।
তার অভিযোগ ছিল, এসব আদেশের মাধ্যমে আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া তার বৈধ আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।
রিটে বিবাদী করা হয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক এবং আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী মিস লুৎফে জাহান পূর্ণিমা ও অ্যাডভোকেট মো. মুহাম্মদ রোকন উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। প্রথম শুনানিতে আদালত রুল নিশি জারি করে বিবাদীদের কাছে ব্যাখ্যা চায়, কেন সংশ্লিষ্ট আদেশগুলো আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া জারি করা হয়েছে এবং সেগুলো কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না। রুলটি চার সপ্তাহের মধ্যে জবাবদানের জন্য নির্ধারণ করা হয়।
পরবর্তীতে আদালত সংশ্লিষ্ট দুটি আদেশের কার্যকারিতা ছয় মাসের জন্য স্থগিত (স্টে) করেন এবং রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাসনাইন জলিল চৌধুরীকে পূর্ণ চেয়ারম্যান হিসেবে পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তার সব আর্থিক, প্রশাসনিক ও আইনগত ক্ষমতা অবিলম্বে ফিরিয়ে দিতে বলা হয়।
আদালত আরও নির্দেশ দেন, আবেদনকারীকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে বিবাদীদের কাছে নোটিশ পাঠাতে হবে। আদালতের সুপারিনটেনডেন্ট নাসিমা খাতুন ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান হাসনাইন জলিল চৌধুরী শাকিল বলেন, “আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে নানা অভিযোগ আনা হয়েছিল। আমি হাইকোর্টে রিট করে ন্যায়বিচার পেয়েছি।”
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি তৎকালীন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের স্বাক্ষরিত এক আদেশে আনোয়ারার আটটি ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতির কারণে জনসেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)দের এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
সে সময় বৈরাগ, বারশত, বারখাইন, আনোয়ারা সদর ও চাতরী ইউনিয়নে ইউএনও তাহমিনা আক্তার এবং রায়পুর, বরুমচড়া ও জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ হোসাইন প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন।
ক্ষমতাচ্যুত চেয়ারম্যানদের মধ্যে ছিলেন বৈরাগের নোয়াব আলী, বারশতের এম এ কাইয়ুম শাহ, বারখাইনের হাসনাইন জলিল শাকিল, আনোয়ারা সদরের অসীম কুমার দেব, চাতরীর আফতাব উদ্দিন চৌধুরী সোহেল, বরুমচড়ার শামসুল ইসলাম, রায়পুরের আমিন শরীফ ও জুঁইদণ্ডীর মো. ইদ্রিস।
৫ আগস্ট সরকার পতনের পর চেয়ারম্যানদের আত্মগোপনে থাকা এবং পরিষদে অনুপস্থিতির কারণে সে সময় ইউনিয়ন পরিষদগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।












