বাংলাধারা প্রতিবেদন »
নগরীর ধনিয়ালাপাড়ায় একটি ব্যাংকের শাখা কার্যালয়ে দুধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে টাকাপয়সা লুঠ হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায় নি। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্বৃত্তরা ভল্ট ভাঙার চেষ্টা করেছিল।
শুক্রবার (৭ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লি.( ইউসিবিএল) ব্যাংকের বায়তুশ শরফ ধনিয়ালাপাড়া শাখায় এ ঘটনা ঘটেছে। ব্যাংকের দারোয়ানকে প্রায় অজ্ঞান অবস্থায় সিঁড়িতে পাওয়া যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্বৃত্তরা ভল্ট ভাঙার চেষ্টা করেছিল। তবে ভল্টে গচ্ছিত টাকা লুট হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইউসিবিএল’র বিশেষজ্ঞ টিম এসে ভল্ট খোলার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে যারা এ কাজ করেছে তারা খুবই দক্ষ বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সদীপ কুমার দাশ জানান, আব্দুল হাইয়ের মালিকানাধীন জিলানী মার্কেট নামক পাঁচতলা ভবনটির নিচতলায় মেশিনারিজ সামগ্রীর কয়েকটি দোকান রয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় ইউসিবিএল’র শাখা অফিস। চতুর্থ তলায় আছে মেটলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির অফিস। পঞ্চম তলায় একটি এনজিও’র অফিস করার কথা বলে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। তবে অফিস এখনও হয়নি। এছাড়া সেখানে বাড়ির মালিকের গাড়িচালকসহ আরও কয়েকজন ব্যাচেলর থাকতেন।
ওসি সদীপ আরো জানান, শিফটের নিরাপত্তা কর্মী ব্যাংকে এসে দেখেন দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মী নওশাদ মিয়া (৪৩) প্রায় অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে। এসময় তিনি বিষয়টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক হুমায়ন মোহাম্মদ মোরশেদকে জানান। ব্যাংকের কর্মকর্তারা পুলিশকে জানায়। পুলিশ গিয়ে দেখেন নওশাদ বারবার অসংলগ্ন কথা বলছিলেন। তাকে খুব ক্লান্ত ও দুর্বল দেখাচ্ছিল। পুলিশ তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এসময় ব্যাংকের ফটকে লাগানো তিনটি তালা কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়। সেখানে নতুন একটি তালাও লাগিয়ে দিয়েছিল দুর্বৃত্তরা।
নগর পুলিশের উপ-কমিশনার ডিসি-(পশ্চিম) ফারুকুল হক জানান, সিআইডির ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থলে যাবার পর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তারা ব্যাংকের গেইটে দুর্বৃত্তদের লাগানো তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করেন। ভল্ট খোলার চেষ্টার প্রমাণ তারা পেয়েছেন। এজন্য ভল্টের নির্ধারিত চাবি দিয়ে সেটি খোলা যাচ্ছে না। পুলিশের পক্ষ থেকে ইউসিবিএল’র ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তারা এক্সপার্ট টিম পাঠানোর কথা জানিয়েছেন। সেই টিম পৌঁছার পর ভল্ট খুললে সেখানে গচ্ছিত টাকা খোয়া গেছে কি না নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
ডিসি ফারুকুল হক আরও জানিয়েছেন, দুর্বৃত্তরা ব্যাংকের ভেতরে থাকা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাগুলো বাঁকা করে রেখে যায়। ক্যামেরার ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডারের (ডিভিআর) হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে গেছে। এতে তাদের ধারণা, দুর্বৃত্তরা খুবই সুদক্ষ এবং পরিকল্পিতভাবেই তারা কাজটি করেছে। তাদের চেহারা যাতে শনাক্ত না হয়, সেজন্য তারা ডিভিআর খুলে নিয়ে গেছে।
এদিকে নগর গোয়েন্দা পুলিশের সংগ্রহ করা মার্কেটের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় সংরক্ষিত ফুটেজে দেখা গেছে, শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৩টা ৫১ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডে যুবক বয়সী দু’জন বেরিয়ে আসছেন ব্যাংকের ভেতর থেকে। প্রথমজন বেরিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। দ্বিতীয়জন বের হয়ে তালা লাগান। রাত ৩টা ৫২ মিনিট ৭ সেকেন্ডে দু’জন বেরিয়ে যান।
নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) ফারুকুল হক বলেন, এনজিও অফিস করার কথা বলে যে দুই জন পাঁচতলায় ওঠেছিলেন তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এতে আমরা সন্দেহ করছি তারাই ব্যাংকে অপরাধ সংঘটন করেছে। এসব অপরাধের সঙ্গে ব্যাংকের ভেতরে-বাইরের কেউ জড়িত কিনা, ভবনের মালিকের কোনো ত্রুটি আছে কি না সবই আমরা তদন্ত করে দেখা হবে।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












