২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সংবাদ সম্মেলনে গর্ভবতী স্ত্রীর আর্তনাদ

ইকরামকে ফাঁসাতে সক্রিয় চক্র; আমার স্বামী নির্দোষ!

চট্টগ্রামে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ইকরামকে ‘পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাঁর স্ত্রী রুমা আক্তার সুচী।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ‘এস রহমান হল’-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সুচী বলেন, “পুরো ঘটনাই মিথ্যা ও সাজানো নাটক। আমার স্বামী একজন ব্যবসায়ী। ঘটনার সময় তিনি বাসাতেই ছিলেন। আমাদের বাসায় কোনো অস্ত্র ছিল না।”

তিনি দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাইলে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নগরের বায়েজিদ বোস্তামী লিংক রোড এলাকা থেকে ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম (২৮) ও তাঁর সহযোগী আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৭। র‍্যাবের দাবি, ইমতিয়াজ অস্ত্র কেনাবেচার উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছিলেন। তাঁর কাছ থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয় এবং পরে তাঁর দেওয়া তথ্যে বাসায় অভিযান চালিয়ে আরও একটি পিস্তল ও ৫৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের এই ঘটনাটি পুরোটাই পরিকল্পিত উল্লেখ করে ইকরামের স্ত্রী বারবারই গণমাধ্যমে বলে আসছেন “তাঁর স্বামী নির্দোষ।” গতকাল চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি আবারও গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানান, তাঁর স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে নাটক তৈরি করে ফাঁসানো হয়েছে।

চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত ও সমালোচিত দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদকে (যাকে ধরিয়ে দিতে পুলিশ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল) ধরিয়ে দিতে সহায়তা করার পর একটি চক্র ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম ও তাঁর পরিবারকে ফাঁসানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। ইতোমধ্যে কয়েকবার হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে, যা চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনারকে অবহিত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সুচী আরও বলেন, “আমি গর্ভবতী। অভিযানের সময় পরিবারের সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বাসার ভেতরের অবস্থা ফেসবুকে লাইভে দেখাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু র‍্যাব সদস্যরা তাতে বাধা দেন।”

ইকরামের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তারা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সেই সঙ্গে পুলিশের সহায়তা কামনা করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করেছেন তারা।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ