১৪ মার্চ ২০২৬

ইরানের ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

বাংলাধারা ডেস্ক »

ইরানের একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দেশটির নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, বৃহস্পতিবার ওই ড্রোনটি মার্কিন জাহাজের এক হাজার গজের মধ্যে চলে আসার পর যুদ্ধ জাহাজ ইউএসএস বক্সার প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এটি ভূপাতিত করে।

তবে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার কোনো খবর তাদের কাছে নেই। গত জুনে ওই একই এলাকায় ইরান একটি মার্কিন সামরিক ড্রোন ভূপাতিত করেছিল।

এর আগে তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি চোরাচালানের অভিযোগে সম্প্রতি বিদেশি একটি ট্যাঙ্কার এবং এর ১২ জন ক্রুকে আটক করা হয়েছে।

গত মে মাস থেকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচল এলাকায় ইরানের বিরুদ্ধে ট্যাঙ্কারে হামলার অভিযোগ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এসব অভিযোগ নাকোচ করেছে ইরান। সাম্প্রতিক এসব ঘটনা ওই এলাকায় সামরিক সংঘাত শুরু করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসে দেয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা সম্পর্কে সবাইকে জানাতে চাই আমি। এটি ইউএসএস বক্সার সম্পর্কিত, যা একটি উভচর যুদ্ধ জাহাজ।

তিনি বলেন, অনেক বেশি কাছে চলে আসায় ইরানের একটি ড্রোনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে বক্সার। ড্রোনটি বেশ কয়েক বার হুঁশিয়ারি এবং থামার নির্দেশ উপেক্ষা করে জাহাজ এবং ক্রুদের নিরাপত্তার প্রতি হুমতি তৈরি করে। ড্রোনটি সাথে সাথেই ধ্বংস করা হয়।

ট্রাম্প বলেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলকারী জাহাজের বিরুদ্ধে ইরানের বহু উস্কানিমূলক ও শত্রুভাবাপন্ন আচরণের মধ্যে এটি একটি। নিজেদের লোকবল, স্থাপনা এবং স্বার্থ রক্ষার পুরো অধিকার রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। এর আগে ওয়াশিংটনের তরফ থেকে বলা হয়, ইরানের উচিত আটক করা বিদেশি জাহাজটিকে দ্রুত ছেড়ে দেয়া।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ডের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, জাহাজটি ১০ লাখ লিটার জ্বালানি চোরাচালান করছিল। পরে পানামার পতাকা সংবলিত রিয়াহ ট্যাঙ্কারের চারপাশে ইরানের স্পিডবোটের টহল দেয়ার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। ইরান জানায়, লারাক দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ট্যাঙ্কারটি আটক করা হয়।

২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে আসার পর ইরানের তেলখাতের ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞার মার্কিন ঘোষণার পর উপসাগরীয় এলাকায় উত্তেজনা শুরু হয়। সূত্র: রয়টার্স।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ