ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপনে অশেষ পুণ্য, বরকত ও কল্যাণ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সুফিবাদী আলেম-ওলামা ও মাশায়েখরা। তারা বলেছেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দ.)-এর দুনিয়ায় শুভাগমন আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবজাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত। সেই নিয়ামতের শুকরিয়া হিসেবে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন করা হয়।
‘সকল ঈদের সেরা ঈদ ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.)’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ সুফিবাদী ঐক্য ফোরাম কেন্দ্রীয় পরিষদের উদ্যোগে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের আলহাজ্ব সুলতান আহমদ হলে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
ফোরামের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ রানার সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পীরে ত্বরিকত আল্লামা সৈয়দ আহমদ জামাল আশরাফ আল আশরাফী জিলানী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সমগ্র সৃষ্টির মূল হচ্ছেন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (দ.)। তাঁর আনুগত্য এবং আহলে বাইতে রাসুলের (দ.) প্রতি ভালোবাসা ফরজ। উপমহাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে সুফিবাদী সুন্নি মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও আন্তঃযোগাযোগের অভাব, অনৈক্য ও বিভাজনের কারণে তারা পিছিয়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, রাজনীতি, অর্থনীতিসহ দেশ পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে সুফিবাদী সুন্নিরা নেই। ফলে প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে। সুফিবাদী, উদারনৈতিক ও মানবিক ইসলামের প্রসার ঘটাতে সব সুন্নি মতাদর্শী ও তরিকতপন্থিকে একই প্ল্যাটফর্মে আসার আহ্বান জানান তিনি।
মুখ্য আলোচক জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি সৈয়দ অছিয়র রহমান বলেন, মহানবী (দ.)-এর দুনিয়ায় শুভাগমন আল্লাহর পাকের সেরা নিয়ামত। তাই নিয়ামতের শুকরিয়া হিসেবে আমরা ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন করি।
তিনি আরও বলেন, বিগত দুই বছরে দেশের বহু মাজার ও খানকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে অসংখ্য মাজার গুঁড়িয়ে দেওয়া হলেও এসব ঘটনার যথাযথ বিচার হয়নি। মাজারে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বর্তমান সরকারের প্রতি অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনার উদ্বোধন করেন মাইজভান্ডার দরবার শরীফের শাহজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ নাফিসুর রহমান মাইজভান্ডারী।
নির্ধারিত বিষয়ের ওপর আলোচনায় অংশ নেন হযরত শাহ আমানত (রহ.) দরবার শরীফের আওলাদ শাহজাদা সৈয়দ হাবিবুল্লাহ খান মারুফ, গবেষক মুহাম্মদ আবদুর রহিম, শাহজাদা মাওলানা ফখরুল ইসলাম রিজভী, শাহজাদা মাওলানা সৈয়দ গোলাম রসুল, শাহজাদা মাওলানা সৈয়দ ছালেকুল মাওলা, আল্লামা শফিকুল ইসলাম আস সাঈদী, আলহাজ্ব মুহাম্মদ মুছা, হালদা গবেষক মুহাম্মদ হারুন পাশাসহ অনেকে।
এ সময় আল্লামা মঈনুদ্দিন রেজভী, মাওলানা রায়হান রেজা আশরাফী, মাওলানা আবদুল মান্নান আশরাফী, আনিছ মুহাম্মদ বিপলু, এম মহিউল আলম চৌধুরী, আ ব ম খোরশিদ আলম খান, মাওলানা গিয়াস উদ্দিন নেজামী, মাওলানা করিম উদ্দিন নূরী, ফরিদুল আলম আশরাফী, মুহাম্মদ ইলিয়াছ সোহেল ও নাজিম উদ্দিন মিয়াজী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা বলেন, ‘সুন্নি সুফিবাদিরা আজ জেগে উঠেছে। তাদের কেউ পরাভূত করতে পারবে না।’
অনুষ্ঠানের শেষে কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইন উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। পরে তাঁর পরিবেশনায় মিলাদ-কিয়াম অনুষ্ঠিত হয়। মিলাদ-কিয়াম শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ এবং বিশ্বের মজলুম মানবতার পরিত্রাণ কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন পীরে ত্বরিকত আল্লামা সৈয়দ আহমদ জামাল আশরাফ আল আশরাফী জিলানী।












