বাংলাধারা ডেস্ক »
করোনা মহামারির কারণে চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে দেশে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এ সময়ে ক্লাস-পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে আগামী বছর (২০২১ সাল) এসএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে জানিয়ে সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি শিক্ষার্থীদের পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
তবে পরীক্ষা কীভাবে হবে, সিলেবাস কমবে কিনা, সময় বাড়ানো হবে কিনা এসব বিষয়ে কোনো দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডও (এনসিটিবি) এখনও ‘পরিকল্পনা’ তৈরির প্রাথমিক পর্যায়ে। ফলে ২০২১ সালের এসএসসি ও সমমানের প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থী এক ধরনের উদ্বেগে রয়েছে।
জানা গেছে, ২০২১ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ২০ লাখ। এসব শিক্ষার্থী বছরের প্রায় পুরোটাই ক্লাস-পরীক্ষা থেকে দূরে রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু প্রায় ৯ মাস ক্লাস-পরীক্ষা থেকে দূরে থাকার পর মাত্র ৩ মাসে পরীক্ষার প্রস্তুতির ঘোষণায় ব্যাপকভাবে মানসিক চাপে ২০ লাখ কিশোর-কিশোরী।
বিষয়টি নিয়ে কথা বললে, ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) মনোরোগ বিদ্যা বিভাগের সাবেক প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অধ্যাপক মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে দুই ধরনের ইস্যু আছে। একদিকে পরীক্ষা সময় মতো না হলে সেশনজট হবে। অন্যদিকে অল্প সময় দিয়ে পরীক্ষা নিলে শিক্ষার্থীদের ওপর বিরাট বোঝা বা মানসিক চাপ দেয়া হবে। মানসিক চাপে পড়লে এর কিছু ফলাফল হতে পারে। যেমন, পারফর্মেন্স খারাপ হতে পারে, মোটিভেশন কমে যাবে, ড্রপআউট হতে পারে। অনেকে ভয়ে এবার পরীক্ষা নাও দিতে পারে। এসব মানসিক চাপের ফলে অনেকে ড্রাগ নেয়াও শুরু করে। এজন্য সব বিষয় ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া।’
ক্লাস-পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরাও চায় ক্ষতি পুশিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে। এজন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘এসএসসি ব্যাচ ২০২১’, ‘এসএসসি’২১ ব্যাচ এর ক্ষতিপূরণ চাই’, ‘করোনার মধ্যে এসএসসি নয়’সহ বেশ কিছু নামে গ্রুপ খুলেছে তারা। এসব গ্রুপে প্রায় ৭ লাখ সদস্য রয়েছে। খবর: সময় নিউজ
বাংলাধারা/এফএস/এঅর












