১৩ মার্চ ২০২৬

উপল বড়ুয়ার ‘ডিনারের জন্য কয়েকটি কাটা আঙুল’

ইয়াসির রাফা »

অমর একুশে বইমেলায় (২০২০) এসেছে উপল বড়ুয়ার প্রথম ছোটগল্পের বই ‘ডিনারের জন্য কয়েকটি কাটা আঙুল’। বইটি প্রকাশ করেছে প্রকাশনা সংস্থা ‘উড়কি’। বইমেলায় উড়কির ২২১ নম্বর স্টলে এ বইটি পাওয়া যাচ্ছে। প্রচ্ছদ করেছেন মোশারফ খোকন। বইয়ের মূল্য ১৪০ টাকা।

‘ডিনারের জন্য কয়েকটি কাটা আঙুল’ প্রসঙ্গে উপল বড়ুয়ার সাথে কথা বলেছেন বাংলাধারা’র প্রতিবেদক ইয়াসির রাফা

রাফাঃ প্রথম গল্পগ্রন্থ প্রকাশের অনুভূতি কেমন ?

উপলঃ গল্পের ভেতরে যে গল্পহীনতার ব্যাপার থাকে আমি তাই লিখতে চেয়েছি। অর্থাৎ যা কিছুকে গল্প হিসেবে আমরা দেখি, তার বাইরে থেকে দেখার প্রচেষ্টা চালিয়েছি বইয়ের ৭টি গল্পে। ‘নিজের লেখালেখি নিয়ে আমি সব সময়ই সন্দিহান। এটা বিনয় বা অভিনয় নয়। তবুও চেয়েছি কিছু লিখতে। কেননা আমি সবসময় লিখতেই চেয়েছি। এবং এখনও জানি না কীভাবে লিখতে হয়। কীভাবে একটা গল্প, গল্পের মতো হয়ে ওঠে, পাঠকের মন ও শরীরকে নাড়া দেয় জানিনা। অবশ্য পাঠক পড়লো কি পড়লো না সে চিন্তাও আমার নেই। তবুও আশা, অন্তত কিছু পাঠক বইটি পড়ুক।’

রাফাঃ বইয়ের নাম ‘ডিনারের জন্য কয়েকটি কাটা আঙুল’। এমন নামের পেছনে আলাদা কোনো কারণ আছে?

উপলঃ না। কোনো কারণ বা উদ্দেশ্য নেই। বইয়ের নাম কী হবে এইটা ভাবতে গিয়ে নামটা এসেছে। বইয়ের গল্পগুলো কাঁটা চামচে বা হাতেও খাওয়া যাবে।

রাফাঃ আপনাকে সবাই জানে কবি হিসাবে। এবারে ছোটগল্প লিখলেন। এ নিয়া কোন পরিকল্পনা?

উপলঃ চিন্তা-ভাবনা করে আমি কোনোকিছু করি নাই। লিখিও নাই। মনে হইলো, কবিতা লিখছি, গল্পও লিখে দেখি কয়েকটা। বড় কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে আমি কখনো লিখি না। লিখতে ইচ্ছে হয়, তাই লিখি। লিখতে ইচ্ছে হইলে হয়তো সামনে উপন্যাসও লিখবো।

রাফাঃ বইটা কাদের জন্য,কোনো টার্গেট অডিয়েন্স ?

উপলঃ আমার পাঠক সংখ্যা সীমিত।আমিও চাই না বেশি সংখ্যক পাঠক ‘ডিনারের জন্য কয়েকটি কাটা আঙুল’ পাঠ করুক। গল্পগুলো কাদের ভাল লাগবে তা বলা সত্যিই মুশকিল। তবে ধারনা করছি, যাদের হালকা-পাতলা ফিলোসফি ও সাইকোলজিক্যাল বিষয়াদি জানা আছে, তারা পড়ে বুঝতে পারবেন।

রাফাঃ লেখার পেছনের জার্নি-থটস নিয়া বললে কি বলবেন?

উপলঃ জার্নি-থটস তো থাকেই। প্রত্যেক লেখকের থাকে। আমাদের ফ্যামিলি বা সোসাইটিতে লিখতে গেলে তো অনেককিছু সহ্য করতে হয়। লেখক অনেকের কাছে হাস্যকর পাত্র আবার অনেকের কাছে নবীর সমান। কে কিভাবে নিচ্ছে সে আস্পেক্ট থেকে লেখালেখি আসলে হয় না। লেখালেখির ভেতর দিয়ে জীবনের যে দ্বান্দ্বিক অবস্থান তা নিয়ে একটা বুঝাপড়ায় যাওয়া যায় আবার যাওয়াও হয় না। লেখালেখি অনেকটা মাফিয়া চক্রের মতো। একবার জড়িযে গেলে ছাড়া কঠিন। অনুভূতির বিষয়ে বলতে গেলে, লিখতে পারলে এক ধরণের অকৃত্রিম সুখকর অনুভূতি হয়। সমাজটাকে অন্যভাবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য,উপল বড়ুয়ার জন্ম ও বেড়ে ওঠা কক্সবাজারের রামুতে। যুক্ত আছেন সাংবাদিকতার সঙ্গে। তিনি মূলত কবিতার মানুষ। এর আগে তার প্রকাশিত তিনটি কাব্যগ্রন্থ-কানা রাজার সুড়ঙ্গ (২০১৫) উইডের তালে তালে কয়েকজন সন্ধ্যা (২০১৮) এবং তুমুল সাইকেডেলিক দুপুরে (২০১৯)।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/ইরা

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ