বাংলাধারা প্রতিবেদন »
যুক্তরাজ্যের স্নাতকোত্তর মেডিকেল ডিপ্লোমা এমআরসিপি (মেম্বারশিপ অব দ্য রয়েল কলেজেস অব ফিজিশিয়ান্স অব দ্য ইউনাইটেড কিংডম) পরীক্ষায় রেকর্ড নম্বর পেয়েছেন বাংলাদেশি তরুণ চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হক জেসি। ডা. মাহমুদুল হক জেসি পেয়েছেন ৯০৬। যা এ বছরের সর্বোচ্চ।
এমআরসিপিতে মোট ১০০০ নম্বরের পরীক্ষায় পাস নম্বর ৪৫৪।
এমআরসিপি হচ্ছে যুক্তরাজ্যের স্নাতকোত্তর মেডিকেল ডিপ্লোমা। এ পরীক্ষায় পাসের মাধ্যমে একজন চিকিৎসক যুক্তরাজ্যের রয়্যাল কলেজস অব ফিজিশিয়ান এর সদস্যপদ লাভ করেন।
পরীক্ষায় চিকিৎসকদের দক্ষতা, জ্ঞান ও আচরণ যাচাই করা হয়। এর তিনটি অংশ—এমআরসিপি (ইউকে) পার্ট-১, এমআরসিপি (ইউকে) পার্ট-২ লিখিত এবং এমআরসিপি (ইউকে) পার্ট-২ ক্লিনিকাল।
গত বছর মে মাসে মাহমুদুল প্রথম পার্ট পরীক্ষায় অংশ নেন। দ্বিতীয় পার্ট পরীক্ষা হয় চলতি বছরের ২৭ অক্টোবর। ২৭ নভেম্বর ফল প্রকাশিত হয়।
বর্তমানে মাহমুদুল শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি কখনই ভাবিনি যে আমি সর্বোচ্চ নম্বর পাবো। তবে, মনে হয়েছিল যে পরীক্ষায় আমি প্রশ্নের উত্তরগুলো ভালই দিয়েছিলাম।’
নিজের রেকর্ডসম সাফল্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি জিনিয়াস না। তবে, অনেক পড়াশোনা করেছি। মেডিকেলের দ্বিতীয় বর্ষ থেকেই আমার মূল বইগুলো পড়ার অভ্যাস ছিল। আগের পরীক্ষায় এগুলো কাজ না দিলেও, এবার সেই অভ্যাসটিই আমাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে।’ পাঠ্যবইয়ের বাইরেও আমি মেডিকেলবিষয়ক প্রচুর বই পড়েছি। আমার বাসায় অনেক বই রয়েছে। ইংল্যান্ডে চিকিৎসাবিদ্যায় উচ্চতর ট্রেনিং করতে চাই। দক্ষতা অর্জন করে দেশে ফিরে সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করব।
মাহমুদুলের গ্রামের বাড়ি ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জে। ২০০৭ সালে এইচএসসি পাসের পর, ২০০৮ সালে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ভর্তি পরীক্ষায় তিনি ৫৬তম স্থান অর্জন করেছিলেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে আগ্রহ থেকে তিনি পরের বছর ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন এবং মেধা তালিকায় ২৯তম হয়েঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন।
জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, এমআরসিপি পরীক্ষা ১ হাজার নাম্বারের হয়। এর মধ্যে পাস মার্ক হল ৪৫৪। সেখানে ৯০৬ নাম্বার পেয়ে সারা বিশ্বের সব প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রথম হন ডা. জেসি হক।
বাংলাধারা/এফএস /এইচএফ/এআর












