মো. সৈকত »
সপ্তাহব্যাপী চলা লকডাউনের দ্বিতীয় দিন চলছে আজ। অফিসসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান চালু রেখে শুধুমাত্র গণপরিবহন বন্ধ রেখে ভিন্নধর্মী এক লকডাউন চলছে। যে লকডাউনে ধনিক শ্রেণির কোন সমস্যা না হলেও অবর্ণনীয় কষ্ট ভোগ করছেন মধ্যবিত্তসহ নিম্ন আয়ের মানুষ।
বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারের আর্থিক প্রণোদনা থাকলেও নেই ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য। তাই এই লকডাউনে শিল্পপতিদের কোন সমস্যা না হলেও হতভম্ব হয়ে পরেছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
সোমবার (০৫ এপ্রিল) নিজেদের কষ্টের কথা জানান দিতে নগরীর বেশ কয়েকটি মার্কেটের সামনে মানববন্ধন করেছেন ব্যবসায়ীরা। সেই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার (০৬ এপ্রিল) নানা স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। এ সময় তারা কিছু সময়ের জন্য হলেও দোকান খোলা রাখার জন্য সরকারের কাছে অনুমতি চান।
এছাড়া, প্রথম দিনের মতো লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেও সকাল থেকেই নগরীর অলংকার, নয়াবাজার, বড়পোল, আগ্রবাদ, দেওয়ানহাট, টাইগারপাস, নিউ মার্কেট, আন্দরকিল্লা, লালখান বাজার, ওয়াসা, জিইসি, ২নং গেইট, বহাদ্দারহাট মোড়ে অফিসগামী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। সবাই তীর্থের কাকের মত অপেক্ষা করে আছেন একটি সিটের জন্য। কেননা , যেকোন মূল্যে তাকে যে পৌঁছাতে হবে কর্মস্থলে।
অন্যদিকে, সরকারের ঘোষিত লকডাউনে রস্তায় কোন গণপরিবহন না থাকলেও ধাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রাইভেট কার, সিএনজি ও রিক্সা। এতে করে নগরীর বেশ কয়েক জায়গায় দেখা মিলেছে তীব্র যানজট।
নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় যানজটে রিক্সায় বসে থাকা এক যাত্রী বাংলাধারাকে বলেন, ‘এটা খুবই হাইস্যকর একটা লকডাউন। এতে কোন উপকারই হবে না। শুধু শুধু ভোগান্তি। লকডাউনেও যদি রাস্তায় যানজট থাকে, তাহলে এমন লকডাইনের কোন মানে হয় না।’
নগরীর অলংকার মোড়ে কথা হয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আসিফ নামের একজন কর্মকর্তার সাথে। তিনি বাংলাধারাকে জানান, আমার কর্মস্থল আগ্রবাদ। আমাকে ১০ টার মধ্যে অফিসে পৌঁছাতে হবে। কিন্তু আধঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও কোন গাড়ি পাচ্ছি না অথচ এখন ১০ টা বাজতে ৫ মিনিট বাকি। গতকালও প্রায় তিনগুণ ভাড়া দিয়ে অফিসে গিয়েছিলাম। এভাবে চলতে থাকলে বেতনের পুরোটাই চলে যাবে যাতায়াত খরচে।
নগরীর দেওয়ানহাট মোড়ে কথা হয় কাজের আসায় বসে থাকা দিনমজুর মোতালেব মোল্লার সাথে। তিনি জানান, এখন কাজের মৌসুম। কিন্তু সরকার লকডাউন ঘোষণা করায় অনেকে কাজ আপাতত বন্ধ রেখেছেন। গতকালও এসে বসেছিলাম কিন্তু কেউ ডাকে নি। আজ এখনো কাজ ছাড়া বসে আছি। জানি না কাজ পাব কিনা। আমাদের তো দিন এনে দিন খেতে হয়। কাজ নেই তো পেটে খাবার নেই।
এছাড়া, লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেও রাস্তায় জনমানুষের ভির দেখা মিলেছে। যাদের অনেকের মুখে ছিলোনা করোনা থেকে রক্ষার প্রধান হাতিয়ার মাস্ক। গতবছরের লকডাউনে রাস্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা থাকলেও এবার নেই। শুধু কয়েকটি রাস্তার মোড়ে ট্রাফিক পুলিশদের দেখা মিলছে।
বাংলাধারা/এফএস/এআর












