দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত ১৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার বিভাগকে জরুরি প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে একটি দাপ্তরিক পত্র পাঠানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ ও সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেলের সদস্য সচিব মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠির সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগ।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার জেলা সফর করেন। সফরকালে কক্সবাজারে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীতকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রশাসনিক এ উদ্যোগ নেওয়া হলো।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক এ বিষয়ে গৃহীত কার্যক্রমের প্রতিবেদন জরুরিভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়।
এর আগে গত ২ এপ্রিল কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে একটি ডিও (ডেমি-অফিসিয়াল) পত্র পাঠান। এতে তিনি কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার দাবি জানান। পরে প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফরেও বিষয়টি তুলে ধরেন এমপি কাজল।
ডিও পত্রে তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতকে ঘিরে কক্সবাজার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন নগরীতে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটক সেখানে বেড়াতে যান। এতে জনসংখ্যা, অবকাঠামোগত চাহিদা এবং নাগরিক সেবার পরিধি দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু সীমিত জনবল ও আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে বর্তমান পৌরসভা সেই চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার মান বাড়াতে কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা সময়োপযোগী ও যৌক্তিক পদক্ষেপ হবে। বিষয়টি পরে স্থানীয় সরকার বিভাগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েট চিঠি জারির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কক্সবাজারের রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
খুরুশকুলের বাসিন্দা নেজাম উদ্দিন ও মিনহাজ আবেদীন বলেন, আমাদের ধারণা সিটি কর্পোরেশনের সীমানায় পুরো খুরুশকুল এলাকা একীভূত হবে। এতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি জীবনমান উন্নত হবে বলে আশা করা যায়।
আরেক সমাজকর্মী দেলোয়ার হোসেন বলেন, কক্সবাজারের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা। সেই জনআকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে মাননীয় সংসদ সদস্য জননেতা লুৎফুর রহমান কাজল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট বিষয়টি তুলে ধরে আন্তরিক আবেদন জানান। তারই ফল, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগকে পত্র দেয়া। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক চিঠি নয়; বরং কক্সবাজারের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
ঝিলংজার লিংকরোড মুহুরী পাড়ার সমাজকর্মী রাশেদুল হক ও কামরুল ইসলাম বলেন, আইকনিক রেলস্টেশনসহ ঝিলংজা-পিএমখালী ইউনিয়নের অর্ধেক অংশ, রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ির কিছু অংশ নিয়ে খুনিয়াপালংয়ের পেঁচার দ্বীপ পর্যন্ত অংশ সিটি কর্পোরেশনে ঢুকতে পারে। এমনটি হলে বিশ্বমানের পর্যটন নগরী হিসেবে কক্সবাজারকে গড়ে তোলা সহজতর হবে বলে আশা করা যায়।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকার মতে, আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে কক্সবাজারের পরিধি ও গুরুত্ব যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তাতে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হওয়া সময়ের দাবি ছিল। এর মাধ্যমে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, পরিকল্পিত নগরায়ন এবং নাগরিক সেবার মান বহুগুণ বেড়ে যাবে।
কক্সবাজার উন্নয়ন আন্দোলনের প্রধান নির্বাহি অ্যাডভোকেট ওয়াহিদ রুবেল বলেন, সিটি কর্পোরেশন বাস্তবায়িত হলে নগর ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক নাগরিক সেবা এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের মাধ্যমে কক্সবাজার আরও সমৃদ্ধ ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। জনগণের স্বার্থে, উন্নয়নের স্বপ্নে এবং কক্সবাজারের ভবিষ্যৎ নির্মাণে সরকারের নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকুক।
কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগ কক্সবাজার কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. শামীম আল ইমরান জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পত্রটি পেয়ে আমরা ইতোমধ্যে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। সিটি কর্পোরেশন হওয়ার যেসকল শর্ত আছে তা কক্সবাজার পৌরসভা পূরণ করেছে।














