কক্সবাজার প্রতিনিধি »
কক্সবাজারে ‘জেলা তাবলীগ জামায়াত’ এবং ডিসি সাহেবের ‘বলীখেলা ও মেলা’ একই সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে ধর্মভীরুরা বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টির আশংকা করলেও একটি আরেকটির উপর প্রভাব ফেলবে না বলে উল্লেখ করেছে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) থেকে ৩ দিনব্যাপী কক্সবাজার শহরের সমুদ্র সৈকতের ডায়াবেটিক হাসপাতাল পয়েন্ট এলাকায় শুরু হচ্ছে তাবলীগ জামায়াতের ‘জেলা ইজতেমা’। আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এটি শেষ হবে ৯ নভেম্বর।
অন্যদিকে শুক্রবার (৮ নভেম্বর) কক্সবাজারের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে ‘ডিসি সাহেবের বলীখেলা ও মেলা-২০১৯’। এটারও সমাপণী হবে ৯ নভেম্বর।
বলীখেলা নিয়ে বুধবার বিকেল ৪টায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের শহীদ জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।
তিনি বলেন, বিগত ৬৩ বছর ধরে প্রথাগতভাবে ‘ডিসি সাহেবের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা’ প্রতিবছর বৈশাখ মাসেই অনুষ্ঠিক হয়। চলতি বছর ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বিরূপ আবহাওয়ায় দু’বার সময় নির্ধারণ করেও ৬৪তম আসরটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এখন বৈশাখ মাস না হলেও ধারাবাহিকতা রক্ষায় পর্যটন মৌসুমে চলতি বছরের বলিখেলা আসরটি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগত পর্যটকদের জন্য বলিখেলাটি বাড়তি আনন্দ হিসেবে যোগ দেবে বলে মনে করেন ডিসি।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, বৈশাখের বলিখেলায় যেমন গ্রামবাংলার সমস্ত অনুসঙ্গ থাকে, তেমনি এখানেও সবকিছুর উপস্থিতি থাকবে। বিকেল তিনটা থেকে সন্ধ্যার আগেই আয়োজন গুলো শেষ হয়ে যাবে বিধায় বলিখেলা অন্যকোন আয়োজনে প্রভাব ফেলবে বলে মনে হয় না।
প্রেস ব্রিফিংকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার, (সার্বিক) মাসুদুর রহমান মোল্লা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অনুপ বড়–য়া অপু, বলীখেলা কমিটির সচিব পৌর প্যানেল মেয়র হেলাল উদ্দিন কবির, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে, বছর চারেক আগে থেকে প্রতিবছর নভেম্বর মাসে কক্সবাজারে তাবলীগ জামায়াতের ‘জেলা ইজতেমা’ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। জেলার প্রত্যান্ত অঞ্চল থেকে তাবলীগ জামায়াতের মুরব্বী, আলেম-ওলামা ও সাথীদের তত্ত¡াবধানে লাখো মুসল্লীর সমাবেশ ঘটে ইজতেমায়।
জেলা তাবলীগ জামায়াতের মুরব্বী ও ইজতেমার প্রধান মুফতি মোর্শেদুল আলম চৌধুরী বলেন, তাবলীগ জামায়াতের জেলা ইজতেমা ৭ থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত। জেলা প্রশাসকের অনুমতি সাপেক্ষে ‘জেলা ইজতেমার’ তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। ইজতেমার আয়োজন প্রায় শেষ। বৃহস্পতিবার ৭ নভেম্বর ফজরের নামাজের পর আমবয়ানের মাধ্যমে ইজতেমার মূল কার্যক্রম শুরু হবে। ঢাকার কাকরাইলের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য মাওলানা ওমর ফারুকের নেতৃত্বে ১৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বৃহস্পতিবার সকালেই বিমানযোগে কক্সবাজার পৌঁছাবেন।
তিনি আরো বলেন, ডায়াবেটিক পয়েন্টের ঝাউবাগানের পুরোটাই প্যান্ডেল টানানো হয়েছে। এখানে লাখো থাকতে পারবেন। আগতদের পয়ঃনিস্কাশনে ৭৫০টি টয়লেট, ১ হাজার প্রসাবখানা, ১০০ টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, নিরাপত্তার জন্য তাবলীগের প্রায় এক হাজার সাথী আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করবেন। যেকোন দুর্যোগ মোকাবেলায় তৈরী রাখা হয়েছে ফায়ারসার্ভিসকে।
তিনি বলেন, আমাদের পাশাপাশি ৮ ও ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে ডিসি সাহেবের বলীখেলা ও মেলা। একই সময়ে ইজতেমা এবং বলীখেলার আয়োজন বেমানান। এতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মনে ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে। প্রশাসনের এ ধরণের সিদ্ধান্ত কারো কাছে কাম্য নয়। মুসল্লীদের অনুভূতিতে যেন আঘাত না লাগে এ জন্য ‘বলীখেলা ও মেলা’র তারিখ পরিবর্তনের জন্য আহবান জানান মুফতি মোর্শেদুল আলম চৌধুরী।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












