কক্সবাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৮টি পরিবারে এককোটি চল্লিশ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করেছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ট্রাস্টি বোর্ড। বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের হাতে এ সহায়তার চেক তুলে দেয়া হয়।
এতে, জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৪ জনের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে এক কোটি ২০ লাখ, গুরুতর আহত ৩ জনকে ৩ লাখ আর কম আহত ১১জনকে এক লাখ টাকা করে ২০ লাখ মিলিয়ে সর্বমোট এককোটি চল্লিশ লাখ টাকা দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। প্রতিবছর বহুসংখ্যক মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছেন। বার বার বিভিন্ন মাধ্যমে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি ৬ লেন করার দাবি উঠলেও এখনো এর কোনো সমাধান হয়নি। সড়কগুলোর বিশেষ বিশেষ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করা প্রয়োজন। তাছাড়া সড়কে প্রতিনিয়ত পর্যটকদের যাতায়াত রয়েছে তাদের জন্য দরকার সড়ক নিরাপত্তা। নিরাপদ সড়কের পাশাপাশি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক ৬ লেন করা সময়ের দাবি।
বিআরটিএ কক্সবাজারের সহকারি পরিচালক (ইঞ্জি.) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনা কবলিত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। পরিবারের একজন সদস্য হারানো মানে একটি অপূরনীয় ক্ষতি, এই ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব নয়। তবুও সরকারের পক্ষে থেকে পরিবারগুলোর একটু পাশে দাঁড়ানোর লক্ষে ক্ষতিপূরণ দেয়া হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, দুর্ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে আবেদনের সময় টা বাড়িয়ে ৯০দিন করতে সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। যেখানেই দুর্ঘটনা ঘটবে সেখানে বিআরটিএ’র সদস্যরা পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খবর নিয়ে সহযোগিতার আওতায় আনবে। দুর্ঘটনা রোধে দক্ষ চালক তৈরির বিকল্প নেই। বিআরটিএ সিদ্ধান্ত নিয়েছে টানা ৬০ঘন্টা ট্রেনিং ছাড়া কোনো চালককে লাইসেন্স দেয়া হবে না।
কক্সবাজার প্রেসক্লাব সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, চালক-মালিক, পরিবহন শ্রমিক সমিতির সবাইকে নিয়ে সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম করতে পারলে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বলেন, ইতোমধ্যে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকসমুহ চিহ্নিত করে প্রশস্ত করা হচ্ছে। কক্সবাজার টার্মিনাল ও উপজেলা কেন্দ্রিক বাস, ট্রাক, সিএনজি, অটোরিকশা চালকদের প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসতে পারলে কক্সবাজারে দুর্ঘটনার হার অনেকাংশে কমবে বলে আশা করা যায়।
চেক বিতরণীতে, পুলিশ সুপার, সওজ, সিভিল সার্জন, বাস মালিক সমিতি, ট্রাক মালিক গ্রুপ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন প্রতিনিধি, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের এই আর্থিক সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ।














