১৯ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজার কারাগারে রিমান্ড আদেশ পাওয়া হাজতির রহস্যজনক মৃত্যু

কক্সবাজার প্রতিনিধি  »

কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লুৎফর রহমান আজাদকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা মামলায় কারান্তরিণ হাজতি মোস্তফার জেলা কারাগারে রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় হাজতি মোস্তফা ফাঁসিতে আত্মহত্যায় মারা গেছেন বলে দাবি করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

তবে কারাগারে ফাঁসি খাওয়ার মতো কোন অবস্থা বন্দিদের পক্ষে থাকে না বলে দাবি করেছে কারাভোগ করে বের হওয়া অনেক বন্দি। এ কারণে তার মৃত্যু নিয়ে রহস্য দানা বেধেছে। রহস্যের প্রশ্ন উঠায় দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেল সুপার নেছার আহমেদ।

মারা যাওয়া হাজতি মোস্তফা (২৫) কক্সবাজার সদরের ইসলামাবাদ ইউনিয়নের হরিপুর এলাকার বশির আহমেদের ছেলে। তবে, তারা এলাকায় রোহিঙ্গা বলে পরিচিত।

কক্সবাজার জেলা কারাগারের সুপার নেছার আহমেদ জানান, মারামারি ও হত্যা প্রচেষ্টা মামলায় গত ১৮ নভেম্বর মোস্তফা কারাগারে আসেন। তার মামলায় ২৯ নভেম্বর রিমান্ড শুনানি ছিল। আদালত তাকে একদিনের রিমান্ডও মনজুর করে। আদালত থেকে তাকে কারাগারে আনার পর তার কক্ষেই পাঠিয়ে দেয়া হয়। ৩০ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তাকে পেয়ে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক হাজতি মোস্তফাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শাহীন আবদুর রহমান জানান, সোমবার রাত ৮টার দিকে মোস্তফা নামের এক বন্দিকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালের আনার আগেই সে মারাযায়। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা কারাগারের সুপার নেছার আহমেদ আরো জানান, আমি ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে রয়েছি। এরপরও যেহেতু কারাগারে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করার মতো কোন দ্রব্য পাওয়ার কথা নয়, সেহেতু বন্দি মোস্তফার মৃত্যুর বিষয়টি তদন্তে পৃথক দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটিতে জেলার ইন্সপেক্টরকে নিয়ে আগামী কালের (৩ ডিসেম্বর) মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিবে। আরেকটি কমিটি করা হয়েছে হাসপাতালের চিকিৎসককে প্রধান করে। তিনিও একই সময়ে প্রতিবেদন জমা দিবেন। উর্ধতন মহলকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে ধারণা তার। ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে, ১৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় কক্সবাজার সদরের ইসলামাবাদ হরিপুর এলাকার একটি সালিশ থেকে উঠে বাড়ি ফেরার পথে অকস্মাৎ আক্রমণের শিকার হন আসন্ন ইউপি নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লুৎফর রহমান আজাদ লুতু। তাকে অমানবিক ভাবে কুপিয়ে জখম করা হয়। কুপ থেকে মাথা রক্ষা করতে গিয়ে তার হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন প্রায়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাকে কুপানোর ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ঘটনার পরই রোহিঙ্গা হিসেবে পরিচিত মোস্তফাকে স্থানীয়রা ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দেয়। এরপর থেকে কারাগারের নিয়ন্ত্রণে তিনি চিকিৎসা নেন। সুস্থ হবার পর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন।

বাংলাধারা/এফএস/এআর

আরও পড়ুন