মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক »
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল প্রকল্পে স্টেশনের লুব লাইনসহ ১৪২ কিলিামিটার লাইনের কাজ শেষ হতে আরও বাকি প্রায় দেড় বছর। তবে ১০২ কিলোমিটার চট্টগ্রামের দোহাজারী রেল স্টেশন থেকে। চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী স্টেশন প্রায় ৪৯ কিলোমিটার। শুধু চট্টগ্রাম থেকেই কক্সবাজার ট্রেন চলাচল করবে তা ঠিক নয়। ট্রেন যাবে মিয়ানমার হয়ে ভারতেও।
এছাড়া সিলেট ও ঢাকা থেকে টিকেট নিয়ে কক্সবাজারের ট্রেনে যাত্রা নিশ্চিত করা যাবে। কিন্তু চট্টগ্রাম থেকেই কক্সবাজারের ট্রেনে ওঠা যাবে। ফলে ঢাকা ও সিলেটের ট্রেনের যাত্রীরা কক্সবাজারের ট্রেনে উঠতে পারবে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে। এসব যাত্রীদের জন্য অগ্রিম টিকেটের মাধ্যমে আসন বরাদ্দ থাকবে। রেল ট্র্যাক বসানোর কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। পাথর ঢেলে দেওয়া হয়েছে কোন কোন স্থানে।
ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের (টিএআর) দ্বিতীয় রুট ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গাবাদ স্টেশন পর্যন্ত। আবার রোহনপুর থেকে রাজশাহী হয়ে ঈশ্বরদী স্টেশন পর্যন্ত যাবে ট্রেন। ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে (টিএআর) তৃতীয় রুট হলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাধিকাপুর থেকে বিরল স্টেশন হয়ে বাংলাদেশের দিনাজপুর ঢুকবে ট্রেন। এরপর ট্রেন চলবে পার্বতীপুর হয়ে আব্দুলপুর থেকে ঈশ্বরদী হয়ে যুক্ত হবে টিএআর এর সাব রুটে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল লাইন প্রকল্পের দফতর সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের (টিএআর) লিংক এর ১নং রুট হিসেবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রেল স্টেশন গেঁদে হয়ে বাংলাদেশের দর্শনা থেকে ঈশ্বরদী হয়ে জামতলী পৌঁছাবে ট্রেন। এরপর জয়দেবপুর থেকে টঙ্গী হয়ে আখাউড়া পৌছাবে ট্রেন। আবার সিলেট থেকেও আখাউড়া পর্যন্ত আসা ট্রেন জংশন স্টেশনে থামবে। কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ট্রেন চট্টগ্রাম জংশনে পৌছাবে। চট্টগ্রাম স্টেশন থেকেই সিলেট ও ঢাকা থেকে আসা ট্রেন কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করতে পারবে। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী ট্রেন দোহাজারী হয়ে রামু পৌঁছাবে। এরপর রামু জংশন থেকে কক্সবাজার আবার রামু থেকে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকা গুনদুম হয়ে মিয়ানমারের বর্ডার স্টেশন পর্যন্ত যেতে পারবে।

এদিকে, দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজারের দূরত্ব রেল ট্র্যাকে প্রায় ১০১ কিমি.। প্রথম পর্যায়ে ১০১ কিমি. রেল লাইন স্থাপন করা হচ্ছে। কক্সবাজারে প্রায় ৭ কিমি, লুব লাইন, রামুতে লুব লাইন বসবে প্রায় ৫কিমি.। এছাড়াও সেনাবাহিনীর জন্য রামু ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় আরো ১কিমি লাইন বসানো হবে। ডুয়েল গেজ সিঙ্গেল লাইন এর সঙ্গে সাব রুট হিসেবে যুক্ত হবে টঙ্গীসহ ঢাকা। সিলেট সাব রুট হিসেবে যুক্ত হবে আখাউড়া ও কূলাউড়া রেল স্টেশন। কুলাউড়া থেকে শাহবাজপুর হয়ে ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে (টিএআর) চলে যাবে ভারতের মহিশ্বশাণ স্টেশন পর্যন্ত।

প্রধানমন্ত্রী একনেক এর সভায় আরও অবহিত করেন যে, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকল্পটির জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে দক্ষিণ কোরিয়া, চীন এবং এডিবি’র নিকট অনুরোধ জানিয়েছিল। এডিবি কিছু শর্ত সাপেক্ষে অর্থায়নের আশ্বাস প্রদান করে। চীন সরকার হতে অর্থায়নের ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়। পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ কর্তৃক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পূর্বে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র গ্রহণ এবং বাস্তবায়নকাল ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কিন্তু অতিরিক্ত সময় ক্ষেপণের সম্ভাবনা থাকায় প্রকল্পটি ২০১৪ সালের জুলাই এর পরিবর্তে ২০১৩ সালের জুলাই পর্যন্ত নির্ধারণের মতামতসহ প্রকল্পটির সদয় বিবেচনা ও নিতিগত অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছিল।

উল্ল্যেখ, স্বাধীনতার পর জাপান রেলওয়ে টেকনিক্যাল সার্ভিস (জেআরটিএস) কর্তৃক ১৯৭১ সালে রেল লাইনটির সম্ভাবনা যাচাই করে রিপোর্ট দেয়। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে জাপানের জেআরটিএস ১৯৭৬-৭৭ সালে ডাটা সংগ্রহের কাজ সংগ্রহ করে। ১৯৯২ সালের এপ্রিলে “এশিয়ান ল্যান্ড ট্রান্সপোর্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট (আলটিভ)” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় স্টাডিকৃত ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে (টিএআর) নেটওয়ার্কের তিনটি ইউরো-এশিয়ার সংযোগ রুটের মধ্যে সাউদার্ন কোরিডোরে অন্যতম রুট। ১৯৯৫ সালে ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে(টিএআর) সাউদার্ন কোরিডোর-১ এর উপর প্রাথমিক স্টাডি পরিচালনা করা হয়। বাংলাদেশ টিএআর নেটওয়ার্কে সাউদার্ন করিডোরের মাধ্যমে যুক্ত হবে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী মফিজুর রহমান প্রতিবেদককে বলেন, দ্রুত গতিতে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারনে। ঢাকা ও সিলেট কক্সবাজার লাইনের সঙ্গে যুক্ত হবে সাব লাইন হিসেবে। গেঁদে স্টেশন হয়ে ভারতের সঙ্গেও যুক্ত হবে পর্যটনের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম কক্সবাজার রেল লাইন ।












