মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক »
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে মাইল ফলকে ভুল থাকার কারণে বিভ্রান্তিতে পড়ছে পর্যটকরা। সড়ক ও জনপথ বিভাগের দায়িত্বহীনতার কারণে এ ধরনের সমস্যায় পড়ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পরিবহণ চালক ও যাত্রীরা। অথচ প্রতিনিয়ত বিনষ্ট হওয়া রাস্তার সংস্কার কাজও করছেন ওই সড়কের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলীরা। তবুও দেখার কেউ নেই মাইলফলকের এ ত্রুটি।
অভিযোগ রয়েছে, এই তিন কিলোমিটার জায়গায় যে দুর্ঘটনা ঘটে তা প্রমাণ করতে অনেক সমস্যায় পড়তে হয় জেলা পুলিশকে। কারণ মাইলফলকের ত্রুটির কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোন ধরনের অঘটন ঘটলে তা পুলিশি রিপোর্টেও ভুল হিসাবে লিখতে হয়। এছাড়াও কোন অঘটনের কারণে আত্মীয়-স্বজনকে খবর দিতে হলেও দেখা যায় দুই কিলোমিটারের ব্যবধানে সবাই অপেক্ষমান রয়েছে।
এদিকে, টেনশনের কারণে অনেক সময় তথ্যটি মিথ্যা মনে করেও এড়িয়ে যেতে বাধ্য হয় আত্মীয়-স্বজনকে। অন্যদিকে, পটিয়া-কালুরঘাট ক্রসিংয়ের পর থেকে দীর্ঘ প্রায় দশ কিলোমিটারের মধ্যে আর কোন মাইলফলক নেই। এমনকি পটিয়া শহর পার হলেও দোহাজারী পর্যন্ত দুয়েকটি স্থানে মাইলফলক রয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, সড়ক ও জনপথ বিভাগের এ ধরনের দায়িত্বহীনতা পর্যটকদের দূরত্ব নিশ্চিত করতে সমস্যায় ফেলছে।

পর্যটকদের দাবি, অচিরেই এসব মাইলফলকের ত্রুটি বিচ্যুতি দূর করে সঠিক মাইলফলক স্থাপন অথবা ভুল মাইলফলক তুলে নেয়া প্রয়োজন সড়ক ও জনপথ বিভাগের। এদিকে, কে বা কারা পটিয়া ১১ কিলোমিটারের দ্বিতীয় মাইল ফলকটি থেকে একটি ১ মুছে দিয়েছে। কিন্তু সংশোধন হয়নি কক্সবাজারের দূরত্ব। এতে আরও একটি ভুলের মধ্য দিয়ে চলছে এ সড়কে যাতায়াতকারীরা।
প্রত্যক্ষভাবে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম শহর হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিভিন্ন পরিবহণে যাত্রীরা যাচ্ছে কক্সবাজার টেকনাফকসহ সেন্টমার্টিন পর্যন্ত। চট্টগ্রাম শহরের জিরো পয়েন্ট থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। এরমধ্যে চট্টগ্রাম শহর থেকে পটিয়ার দূরত্ব ২৬ কিলোমিটার। চট্টগ্রাম শাহ আমানত সেতু পার হলেই মইজ্যারটেক এলাকায় রয়েছে পটিয়ার দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার লেখা একটি মাইলফলক। শান্তির হাটের আগে শিকলবাহা ব্রিজ পার হলেই পেট্রোল পাম্পের সামনে পড়ে পটিয়া ১১ কিলোমিটার ও কক্সবাজার ১৩৭ কিলোমিটার। এর এক কিলোমিটার পর পটিয়া ১০ কিমি. ও কক্সবাজার ১৩৬ কিমি.।

পর্যটকদের হিসেব অনুযায়ী, এর পরবর্তী মাইল ফলকটি পটিয়া ৯ কিলোমিটার ও কক্সবাজার ১৩৫ কিলোমিটার হওয়ার কথা। অভিযোগ রয়েছে, শান্তিরহাট বাজার পার হয়ে শান্তিরহাটের কসাইখানা খ্যাত এলাকায় যে মাইল ফলকটি রয়েছে সেটিতে লেখা আছে পটিয়া ১১ কিলোমিটার, কক্সবাজার ১৩৬ কিলোমিটার। ফলে বিভ্রান্তিতে পড়ে যায় পরিবহণ চালক ও যাত্রীরা। প্রতিদিন হাজার হাজার লোকজন এ সড়ক দিয়ে পারাপার হলেও দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। বোয়ালখালী-পটিয়া ক্রসিংয়ের প্রায় দুই কিলোমিটার আগে সর্বশেষ যে মাইলফলকটি পাওয়া গেছে সেটিতে লেখা রয়েছে পটিয়া-৯, কক্সবাজার ১৩৫ কিলোমিটার।












