২৬ মার্চ ২০২৬

কবির স্টিলের সুজন ‘জাহাজ থেকে পড়ে’ নয়, মারা গেছে হৃদরোগে

বিশেষ প্রতিবেদক »

সম্প্রতি কবির স্টিল লিমিটেডে এক শ্রমিকের মৃতুকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি। মিথ্যা ও অপব্যাখ্যা সম্বলিত সংবাদ প্রকাশ করায় প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্নের অভিযোগ তুলেছে কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও আইপি টেলিভিশনে অপ্রাসঙ্গিক ও বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ পরিবেশনের কারণে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে প্রতিষ্ঠানের মালিক পক্ষ থেকে। বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশের কারনে শুধু দেশেই নয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এ নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। যা প্রতিষ্ঠানটি কখনো প্রত্যাশা না করায় প্রতিবাদ জানিয়েছে।

জানা গেছে, কেএসআরএম ইয়ার্ডের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিল শ্রমিক মো. আরিফ হোসেন সুজন। গত ১ ফেরুয়ারি রাত ১টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তখন ইয়ার্ডে শ্রমিকদের চা বিরতি চলছিল। এসময় ইয়ার্ডের কাটিং জোন-৩ এর ফ্লোরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে বমি করতে থাকে সুজন। তাৎক্ষণিক প্রতিষ্ঠানের সেফটি পরিদর্শক, ফোরম্যান ও অন্যান্য শ্রমিক তাকে ইয়ার্ডের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তৃপক্ষ তাদের অ্যাম্বুলেন্সে করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরও জানা গেছে, চমেক হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রাথমিক রিপোর্টে মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি উঠে এসেছে। এরপরও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে পরীক্ষা নিরীক্ষা ও তথ্য আদায়ের কাজ চলছে।

ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ নিহত শ্রমিকের পারিবারিক অনটন দূর করতে ক্ষতিপূরণ বাবদ সমস্ত পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছে। মানবিক বিবেচনায় নিহত শ্রমিকের পরিবারকে ভরণ পোষণের জন্য আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি নিহত শ্রমিকের ছোট ভাই মো. ইসমাইল হোসেনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে একই প্রতিষ্ঠানে।

এদিকে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে মিথ্যা ও শোনা কথায় সংবাদ। কেউ তথ্য প্রকাশ করেছেন সুজন জাহাজ থেকে পড়ে মারা গেছে। আবার কেউবা লিখেছে রাতে জাহাজের উপরে কাজ করার সময় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও আবার লোহার পাতের আঘাতে মৃত্যু হয়েছে এমন বিভ্রান্তিকর কথ্য প্রকাশ করেছে পাঠকদের উদ্দেশ্যে।

কবির স্টিল সূত্রে জানা গেছে, রাতের বেলা জাহাজে কাজ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ইয়ার্ডে দিন ও রাত দুই শিফটে কাজ করার জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের অনুমোদন রয়েছে। এছাড়া নিহত শ্রমিককে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের সময় ইয়ার্ড প্যারামেডিক সুজনের শরীরে কোনো ধরনের কাঁটা ও রক্তের দাগ দেখতে পাননি বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে কেএসআরএম’র পাবলিক রিলেশন কর্মকর্তা মিজানুল ইসলাম বাংলাধারাকে বলেন, ‘নিহত সুজন কোন ধরনের লোহার আঘাতপ্রাপ্ত হলে তার শরীরে অবশ্যই সামান্যতম হলেও কাঁটা ও রক্তের দাগ থাকতো। এছাড়া কবির স্টিল লিমিটেডে সকল শ্রমিক ও কর্মচারিকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়। এমনকি কাজের ধরণ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পিপিই (পারসোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট) নিশ্চিত করেই কেবল কাজের অনুমতি দেওয়া হয়।’

আরও পড়ুন