সৈকত জোহা :::
করোনা মহামারির কারণে গত বছরের মার্চ থেকে সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিয়মিত বেতন পেলেও বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন স্কুল ও শিক্ষকরা অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন । কোন কোন স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের নিয়মিত বেতন দিতে পারলেও অধিকাংশ স্কুল তা পারছে না। আবার অর্থাভাবে কোন কোন স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে কথা হয় কচি কন্ঠ স্কুলের প্রিন্সিপাল ও পরিচালক আনোয়ারা রিনু’র সাথে। তিনি বাংলাধারাকে বলেন, ‘বিগত ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সারাদেশের কেজি স্কুল গুলো বন্ধ রয়েছে। যদিও ইতিমধ্যে সরকার চলতি মাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে। আমরা আশায় বুক বেঁধে আছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিগত ১৫ মাস যাবত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কেজি স্কুল টিকিয়ে রাখতে আমাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ বকেয়াসহ, অর্থ সংগ্রহ করতে, মূল্যবান সামগ্রী পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছে। একদিকে শিক্ষকদের বেতন বকেয়া, বাড়িওয়ালার ভাড়া বকেয়া, অন্যদিকে ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন অনাদায়ী রয়েছে। সরকার সব সেক্টরে আর্থিক প্রনোদনা প্রদান করলেও একমাত্র বেসরকারি শিক্ষা ক্ষেত্রে কোন প্রণোদনা প্রদান করে নাই। যা বিমাতাসুলভ আচরণ বলে আমি মনে করি।’
নগরীর হালিশহর নয়াবাজার বিশ্বরোডস্থ দুহা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলে রাজ্যের নীরবতা বিরাজ করছে। যে প্রাঙ্গণ একসময় কচিকাচাদের পদচারণায় মুখর থাকতো তা এখন ধু ধু মরুভূমি। এ বিষয়ে কথা হয় স্কুলের পরিচালক হাসান মাহমুদ এর সাথে।
তিনি বাংলাধারাকে জানান, ‘আমরা মূলত অনলাইনের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমাদের পাঠ কার্যক্রম ও পরীক্ষা Zoom App এর মাধ্যমে নেওয়া হচ্ছে। তবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সুবিধার জন্য আমরা সাপ্তাহিক লেসন প্ল্যান ও নোট শিট দিচ্ছি।পুনরায় লকডাউন দেওয়ায় আমরা অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষার সকল নোট একসাথে pdf file করে, তা মেইল করেছি।’
স্কুলের শিক্ষকদের নিয়মিত বেতন দিচ্ছেন কিনা এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের বেতন নিয়মিত দিচ্ছি। তবে বাসা বাড়া বকেয়া রয়েছে। আর গত বছর থেকে এ পর্যন্ত আমাদের ঋণের পরিমাণ পাঁচ লক্ষাধিক।’
নগরীর কৈবল্য ধাম এলাকায় অবস্থিত আইল্যান্ড আইডিয়াল স্কুলে কথা হয় প্রিন্সিপাল মালেকা আনোয়ারের সাথে । তিনি জানান, আমাদের এই স্কুলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা লেখাপড়া করে। করোনার সময়ে অনেকে চাকরি হারিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। অনেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বেতন নিতে পারছি না। আমরাও শিক্ষকদের ঠিকমত বেতন দিতে পারছি না। বাসা ভাড়াও বাকি পড়েছে ।’
কথা হয় মাহাবুব আলম নামে একজন কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষকের সাথে। তিনি জানান , ‘করোনার সময়ে ঠিক মত বেতন পাচ্ছি না। ধার দেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে। সামনে ঈদ খরচও বেশি। জানি না কী হবে।’
নগরীর একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষিকা আফসানা বলেন, করোনার সময়ে অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছি । বেতন পাচ্ছি অর্ধেক। তাছাড়া এখন টিউশনিও বন্ধ । তাই আমাদের মত সাধারণ পরিবারের জন্য জীবন চালানো অনেক কঠিন হয়ে আছে।
বাংলাধারা/এফএস/এআই












