৩০ মার্চ ২০২৬

করোনায় কী করছেন তরুণ শিক্ষকরা?

ইয়াসির রাফা »

পেশাগত কারণে সারা বছর ক্লাস, প্রশ্ন প্রণয়ন, পরীক্ষাসহ নানা কাজে ব্যস্ত থাকেন শিক্ষকরা। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ অনেকদিন। এই দমবন্ধ সময়ে কীভাবে কাটছে তাদের দিন? কী ভাবছেন তারা? এ নিয়েই কথা হলো চার শিক্ষকের সাথে। তারা প্রত্যেকে তরুণ। শিক্ষকতা পেশায় নবীন। জানালেন তাদের লকডাউনে থাকার গল্প।

নগরীর প্রেসিডেন্সি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের আর্ট এন্ড ক্রাফট বিভাগের সহকারী শিক্ষক মঈনুদ্দিন হাসান। তিনি বলেন, আঁকা আকির মানুষ হওয়ায় স্বভাবতই এটা নিয়েই আছি। টাইপোগ্রাফি, মিডিয়া ব্রান্ডিং, কনসেপ্ট ডেভলাপমেন্ট—এসব নিয়ে আছি আপাতত। সমসাময়িক ঘটনাবলী নিয়ে ড্রইং করছি।

এদিকে চাহিদার প্রেক্ষিতে অনলাইনে চলছে শিক্ষা-কার্যক্রম। তাই দিনের নির্দিষ্ট একটা সময় বাচ্চাদের সাথেই কাটে মঈনুদ্দিন হাসানের। এর বাইরে কী করছেন তিনি? জানালেন, কিছু সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে জড়িত আছি। যতটুকু পারা যায় চেষ্টা করছি। এর বাইরে চলছে বই পড়া, সিনেমা দেখা ও গান শোনা। হেমন্ত মুখার্জি, কিশোর কুমার, মান্না দে শোনা হচ্ছে প্রচুর। মেহেদী হাসানের গজল শুনলাম টানা তিন দিন।

সানোয়ারা ইসলাম বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের অর্থনীতির সহকারী শিক্ষক অলিক বড়ুয়া বলেন, স্কুল বন্ধ হলেও অনলাইনে নিয়মিত ক্লাস চলছে। ছাত্রদের জন্য পড়া, প্রশ্ন এসব তৈরি করতে হচ্ছে। এভাবে দিনের একটা সময় কেটে যাচ্ছে। তবে এই দূর্যোগ না এলে বুঝতে পারতাম না, শিক্ষা ব্যবস্থা কত সহজে সকলের জন্য উন্মুক্ত করা যায়।

পেশাগত ব্যস্ততার বাইরে কী করছেন? জানতে চাইলে অলিক বড়ুয়া বলেন, ইরফান খানের মৃত্যুর পর লাইফ ইন এ মেট্রো সিনেমাটা দেখলাম। আগেও দেখেছি অবশ্য। তবে আমার মনে হয় শিল্পীরা মৃত্যুর পর যতটা মূল্যায়ন পায়, বেঁচে থাকলে ততটা পায় না।

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর ওমেন’র শেষ বর্ষের ছাত্রী দীপালী খাতুন। নিজে তো পড়েনই, পাশাপাশি মানবিক পাঠশালায় সুবিধা বঞ্চিত পথশিশুদের পড়ান। তিনি বলেন, যেহেতু আমিও স্টুডেন্ট তাই আমার লেখাপড়ার উপর গুরুত্ব দিচ্ছি। এখন অনলাইনে ক্লাস করি। পাশাপাশি স্কিল ডেভেলপমেন্ট করার চেষ্টা করছি। সম্প্রতি বেশ কিছু অনুপ্রেরণামূলক বই পড়লাম। এর বাইরে রয়েছে ইসলামিক বই। এগুলো আমার মনের খোরাক জোগায়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মানবিক পাঠশালা বন্ধ থাকলেও ফোনে বাচ্চাদের নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছি। ওরাও মাঝে মধ্যে কল দেয়। তাদের পরিষ্কার-পরিছন্ন থাকতে বলছি। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি বাড়ি থেকে বের না হতে বলেছি। মানবিকের পক্ষ থেকে আমাদের স্কুলের প্রতিটি বাচ্চার পরিবারের জন্যে উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। তবে করোনার কারণে সবকিছু মুখ থুবড়ে পরলেও বায়ু দূষণসহ বৈশ্বিক তাপমাত্রা কমেছে। এটা একটা ভালো দিক বলে জানান দীপালী খাতুন।

নগরের একটি ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলের আর্ট শিক্ষক সাইফুদ্দীন সাইফু। কোয়ারেন্টাইনের দিনগুলো নিয়ে তিনি বলেন, যেহেতু আঁকাআঁকি মূল পেশা, তাই এই সময়ে ছবি আঁকাই বেশি হচ্ছে। এর বাইরে স্কুলের অনলাইন ক্লাস চলছে। বাসায় ভাইয়াদের ৫টা বাচ্চা আছে। তাদের সময় দিই। মুভি দেখছি। গান জিনিসটা আমার অনেক প্রিয়। বাংলা গান অবশ্যই । এভাবেই সময় চলে যাচ্ছে।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

আরও পড়ুন