১৮ মার্চ ২০২৬

করোনার ঝুঁকি সঙ্গী করে বাড়ি ফিরছে মানুষ

সৈকত জোহা  »

যতই দূর পাল্লার বাস বন্ধ হোক না কেন, যে কোন মূল্যে বাড়ি ফিরতে মরিয়া মানুষ। ঈদ ছাড়া যেহেতু পরিবারের সদস্যদের সাথে একত্রিত হওয়ার সুযোগ সহজে আসে না তাই এই সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নয় কেউ।

করোনা মহামারির কারণে সরকারের বিধি-নিষেধ অনুযায়ী এক জেলা থেকে অন্য জেলায় বাস চলাচল করছে না। কর্মস্থলে অবস্থান করে ঈদ উদযাপনের জন্য সরকারের আহ্বানেও সাড়া দিচ্ছে না বেশিরভাগ মানুষ।

চট্টগ্রামের অলংকার, অক্সিজেন, কদমতলী এলাকার বিভিন্ন বাস কাউন্টারের সামনে বাড়িমুখি মানুষের ভিড় থাকলেও সবাইকে হতাশ হতে হয়েছে। করোনা মহামারির জন্য সরকারের বিধি-নিষেধের কারণে ছাড়ছে না কোন দূরপাল্লার বাস। অবশ্য বাস না পেলেও যে যেভাবে পারছে বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করছে।

অলংকার মোড়ে কথা হয় আবছারের সাথে। তিনি পরিবারসহ গ্রামের বাড়ি ফেনী যাবেন। যেহেতু বাস চলছে না তাই একটি নোহা মাইক্রোবাস ভাড়া করেছেন ৬০০০ টাকা দিয়ে।

কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় যাবেন জালাল। জনপ্রতি ৯০০ টাকা ভাড়া হিসেবে তিনি একটা মাইক্রোতে উঠেছেন। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। সরকার তো কর্মস্থলে ঈদ উদযাপন করতে বলেছে তাহলে কেন বাড়ি যাচ্ছেন এই প্রশ্নের জবাবে জালাল বলেন, ঈদ ছাড়া বাড়িতে যাওয়ায় সময় পাই না। ঈদের সময় পরিবারের সবাই একসাথে মিলিত হয়। তাই সরকার বললেও কিছু করার নাই। বাড়ি আমি যাবই তা যত কষ্টই হোক।

এদিকে নগরীর অক্সিজেন মোড়ে কথা হয় রাঙামাটি যাওয়ার জন্য অপেক্ষারত দেবাশীষের সাথে। তিনি জনান, এমনিতে বাস ভাড়া ছিল ১২০ টাকা। এখন করোনা তাই বাস বন্ধ। বাধ্য হয়ে বিকল্প উপায়ে যেতে হবে বেশি ভাড়া দিয়ে। ঈদের সময় পাওয়া ছুটি কাজে না লাগালে পরে আর ছুটি পাওয়া যাবে না।

যে করোনা মহামারি ঠেকাতে সরকারের এত পদক্ষেপ তার সবই বৃথা যাচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে বাড়ি ফেরার এই প্রাণান্তর চেষ্টায়। এ যেন মৃত্যু অভিমুখে যাত্রার প্রতিযোগিতা।

বাংলাধারা/এফএস/এআর

আরও পড়ুন