২১ মার্চ ২০২৬

করোনার দিন শেষ, মাস্ক ছাড়া বাংলাদেশ!

রুবেল দাশ  »

একেক জনের একেক রকম বাহানা। কারো লাগছে গরম, কেউ ভুলে মাস্ক ফেলে এসেছেন বাসায়। কেউবা আবার মাস্ক পকেটে নিয়ে ঘুরছেন কিন্তু পরার সময় পাচ্ছেন না। উদ্দেশ্য একটাই, এসব বাহানায় মাস্ক না পড়া।

সরকারের পক্ষ থেকে ঘরের বাইরে সবাইকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান করা ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কথা বলা হলেও এসবে থোড়াই কেয়ার সাধারণ জনগণের। মাস্ক পড়ার ব্যাপারে তারা যেন চরম উদাসীন।

ইতিমধ্যে ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলেও চট্টগ্রাম শহরের রাস্তায় বের হলে মনে হবে এদেশে করোনা বলতে কিছু নেই। এসব দেখে মনে হয়, করোনার দিন শেষ, মাস্ক ছাড়া বাংলাদেশ! অথচ সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সতর্ক অবস্থানে থাকার কথা বলা হয়েছে।

সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ মানুষের মুখেই মাস্ক নেই। মাস্ক ছাড়াই তারা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মাস্ক কেন পড়েননি, জানতে চাইলে তারা নানা বাহানার কথা জানান। কেউ বলেন, আশেপাশে মানুষ নেই, তাই মাস্ক পড়েননি। কেউ ফোনে কথা বলার জন্য মাস্ক খুলে রেখেছেন। কারো মাস্ক ময়লা হয়ে গেছে তাই ফেলে দিয়েছেন।

আবার অনেকে মাস্ক লাগিয়ে রেখেছেন থুতনির নিচে। অনেকের মাস্কে ঠোঁট ঢাকলেও নাক অনাবৃত। অনেকে মাস্ক পকেটে নিয়ে ঘুরছেন কিন্তু মুখে লাগান না। জানতে চাইলে তারা বলেন, গরমের কারণে বেশি সময় মাস্ক লাগিয়ে রাখা যায় না। তাই খুলে রাখেন।

ওয়াসা মোড়ে এক মাস্ক বিক্রেতাকে দেখা যায় তিনি নিজেই মাস্ক পড়েননি। কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমার গোঁফ অনেক বড়, এগুলোই মাস্ক হিসেবে কাজ করছে!

এদিকে, মাস্ক পড়া নিয়ে চট্টগ্রামের মানুষ উদাসীন হলেও গত ২৪ ঘন্টায় চট্টগ্রামে করোনায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১০৮জন। এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ২২ হাজার ৮জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৯ নভেম্ববর) রাতে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া যায়। এতে দেখা যায় চট্টগ্রামের ৮টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২৬৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি জানান, গত ২৪ ঘণ্টার নমুনা পরীক্ষায় ১০৮জন নতুন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে নগরে ৯১জন এবং উপজেলায় ১৭জন।

ঘরের বাইরে বের হলে মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক করতে রাজধানী ঢাকায় ইতিমধ্যে অভিযান ও জরিমানা শুরু করেছে প্রশাসন। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ ধরণের অভিযান চলমান আছে বলে জানালেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাজীব হাসান। তিনি বাংলাধারাকে বলেন, মাস্ক পরা এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার বিষয়ে আমাদের অভিযান চলমান আছে।

বাংলাধারা/এফএস/আরডি/এআর

আরও পড়ুন