বাংলাধারা প্রতিবেদন »
প্রাণঘাতী করোনা চিকিৎসায় বন্দর নগরী চট্টগ্রামে যুক্ত হচ্ছে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট সিএমপি-বিদ্যানন্দ ফিল্ড হাসপাতাল। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সার্বিক সহযোগিতায় ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে নগরীর পতেঙ্গার বি কে কনভেনশন সেন্টারে অস্থায়ী ভিত্তিতে চালু করা হচ্ছে এই হাসপাতাল। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে তা চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
জানা যায়, ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে থাকছে ২০টি ‘হাই ফ্লো’ অক্সিজেন থেরাপির সুবিধাসম্বলিত শয্যা। সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্টের মাধ্যমে প্রতিটি শয্যার সঙ্গে থাকবে সংযোগ। রোগীদের যাতায়াতের জন্য থাকবে সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস। হাসপাতালে ১২ জন চিকিৎসক, ১৮ জন নার্স ও ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ও সেবার দায়িত্বে। এই হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করোনা টেস্ট করা হবে। আক্রান্তরা বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবে।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন তাদের বিবৃতিতে জানায়, নিজেরা হাসপাতাল বানাতে চাইনি। চেয়েছিলাম ইতিমধ্যে স্থাপিত করোনা ইউনিট বা হাসপাতালে অর্থ বরাদ্দ করতে। যাতে ধারণ ক্ষমতা বাড়ানো হয়। কিন্তু সাড়া পাচ্ছিলাম না তেমন। এছাড়া এসব হাসপাতালে রেফারেন্সের রোগী ভর্তি করালে দুঃস্থ মানুষের চিকিৎসা অনিশ্চিত থেকে যাবে। আর আমাদের অর্থটি মূলত ছিন্নমূল মানুষের চিকিৎসার জন্য। তাই বাধ্য হয়ে নিজেরাই উদ্যোগ নিয়েছি। স্বেচ্ছাসেবী ডাক্তারের পাশাপাশি আমরা বেতন ভিত্তিক ডাক্তার-নার্স নিচ্ছি। আর প্রশাসক হিসেবে পুলিশ প্রশাসনের সাহায্য নিবো। যা করি শুদ্ধভাবেই করার চেষ্টা করি। এক টাকায় চিকিৎসা আমাদের বহুল প্রচলিত প্রজেক্ট, সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে এখানে।
এই বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক ফারুক আহমেদ বলেন, হাসপাতালটি হবে ১শ’ শয্যার। একটি ভবনে আপাতত ৫০ শয্যা দিয়ে হাসপাতালের যাত্রা শুরু হবে। এখানে থাকবে সেন্ট্রাল অক্রিজেন সিস্টেম। পাশাপাশি থাকবে পোর্টেবল অক্সিজেনের ব্যবস্থা। আরেক স্বেচ্ছাসেবক সোনিয়া আক্তার বলেন, এই হাসপাতালে থাকবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ মোট ১২ জন চিকিৎসক ও ১৮ জন নার্স। এছাড়াও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করবেন ৫০জন।
এই হাসপাতাল নির্মাণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্বেচ্ছাসেবী জামাল উদ্দিন বলেন, আমরা হাসপাতালটি করার জন্য চট্টগ্রামে জায়গা পেয়েছি এটা একটা কারণ। আর একটি কারণ হচ্ছে অক্সিজেনের ঘাটতিতে চট্টগ্রামে অনেকের মৃত্যু হয়েছে। মানুষ বেশ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এই দুর্ভোগ কিছুটা লাঘবের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ হাতে নেয়া। আশা করছি জুলাই থেকেই রোগী ভর্তি হতে পারবে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার মাহাবুবর রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা, জনবল নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখবে সিএমপি। সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
সিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বন্দর নগরীর জনসাধারণের জীবন রক্ষায় সিএমপি ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












