কক্সবাজার প্রতিনিধি »
বিশ্বময় আতংক ছড়ানো প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়িতে জনকোলাহল এড়িয়ে চলতে মাইকিং করছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।
বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সচেতনতামূলক এ ঘোষণা বাস্তবায়নে পয়েন্টে পয়েন্টে মেগাফোন নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছে বীচকর্মী ও কক্সবাজার ট্যুুরিস্ট পুলিশ।
এরপরও সৈকতে নেমে আসা নারী-পুরুষকে বিচ এলাকা থেকে তুলে দিয়েছে বীচকর্মী ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা। করোনার সম্ভাব্য সংক্রমন রোধে এ প্রচেষ্টা বলে দাবি করেছেন কক্সবাজার বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।
জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেছেন, করোনা বিশ্বময় আতংক ছড়িয়েছে এবং সংস্পর্শে এটি দ্রুত ছড়ায়। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে সবাই যেন বাড়িতে নিরাপদ থাকে। কিন্তু দেখতে পাচ্ছি এ জরুরী বন্ধকে ছুটি হিসেবে জ্ঞান করে শিক্ষার্থী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে সৈকত এলাকায় ভিড় জমাচ্ছেন অভিভাবকমহল। একে অপরের হাত ধরাধরি করে ঘোরাফেরা করছেন এখানে-ওখানে। তাই ঝুঁকি এড়াতে আমরা পর্যটকদের বাড়িতে থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। যারা এরপরও বালিয়াড়িতে নামতে চাচ্ছেন তাদের বুঝিয়ে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এদিকে, বুধবার (১৮ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৩টায় ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স ৭০ বছর। তিনি করোনা রোগীর সংস্পর্শে এসে মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়াও মৃত বৃদ্ধ ডায়েবেটিস ও কিডনি সমস্যাতেও ভোগছিলেন। তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। নতুন করে ৪ জনসহ দেশে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ জন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে একজন মহিলা, বাকি ৩ জন পুরুষ।
এ তথ্য প্রচার পাবার পরপরই বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়ি ও অন্য এলাকায় জনকোলাহল প্রতিরোধে মাঠে টিম পাঠিয়েছে জেলা প্রশাসন। সিদ্ধান্ত অনুসারে বীচের কিটকট চেয়ার ও ভাসমান এবং অন্য মার্কেটগুলো আপাত বন্ধ রাখারও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সেই মতে বিকেল থেকে কিটকট চেয়ারের ছাতাগুলো গুটিয়ে রাখা হয়।
সচেতনতা প্রচারে বীচ এলাকায় দায়িত্বপালন করছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আমিন আল পারভেজ। তিনি বলেন, করোনার বিস্তার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার পরও একজন মারা গেছে বলে প্রচার পেয়েছে। কক্সবাজার যেহেতু পর্যটন এলাকা আর এখানে দেশের সবস্থান থেকে লোকসমাগম হয়, তাই আমাদের ভীতিটাও বেশি। বিকেলে সৈকতে এমনিতে লোকসমাগম বেশি থাকে। দুরদুরান্তের পর্যটক এলে এটি লোকারণ্যে পরিণত হয়। এছাড়াও সীমান্তের দু’উপজেলা উখিয়া-টেকনাফে ১১ লাখের অধিক রোহিঙ্গার গাদাগাদি বাস। তাই, আমাদের কামনা ঘনবসতির এ জেলাকে করোনা মুক্ত রাখা। প্রশাসনের এ উদ্যোগে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এদিকে, করোনার সংক্রমণ সামলাতে কক্সবাজারের স্বাস্থ্য বিভাগ প্রতিনিয়ত মনিটরিংকরছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প, বিমানবন্দর, বাসটার্মিনাল ও পর্যটন এলাকায় এ নজরদারি রয়েছে বলে দাবি করেছেন কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সার্বক্ষণিক কাজ করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিকেলে সৈকত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রশাসনের পরামর্শের পরও অনেকে বালিয়াড়িতে নামছেন। একপাশ দিয়ে তুলে দিলে, অন্যপাশ দিয়ে নামতে চেষ্টা করছেন তারা। করোনা কি এবং এর প্রভাব কি? এতসব নিয়ে পরিবারের মাঝে কোন কৌতুহল নেই বলেই, পরিবারের সবাইকে নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে আসা ফেনীর মীর আহমদ দম্পতি বীচের সান্নিধ্য পেতে বাচ্চাসহ বালিয়াড়িতে এসেছেন। তাদের মতো অন্য পর্যটক আবাল-বৃদ্ধ-বণিতাও একই ভাবে সৈকতে গোসল করার উপযোগী পোশাক পরে বালিয়াড়িতে আসেন।
সৈকতের সী-সেইফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজান মোহাম্মদ ওসমান বলেন, করোনার আতংক আরো বেশ কয়েকদিন আগে থেকে হলেও সৈকত এলাকায় কোন প্রচারণা ছিলনা। গতকালও লোকসমাগম চোখে পড়ার মতো ছিল। বুধবার বেলা তিনটার দিকেও কিছু সংখ্যক পর্যটক কিটকট চেয়ারে বা গোসলরত ছিল। পয়েন্টে পয়েন্টে মাইক টানিয়ে সচেতনতামূলক মাইকিং করা হলে হয়তো সৈকতে জনসমাগম কম হতো। আমরা বাঙালিরা নিজের উপর বিপদ না আসা পর্যন্ত সচেতন হই না। বিকেলে নিষেধাজ্ঞার পরও অনেকে ফাঁকি দিয়ে বিচে নামতে চেষ্টা করেছে একাধিকবার।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ












