৩০ মার্চ ২০২৬

করোনা ভাইরাস ঠেকাতে নগরীর সব হাসপাতালে মেডিকেল টিম গঠন

তারেক মাহমুদ »

চীনে ছড়িয়ে পড়া ‘নভেল করোনা ভাইরাসের’ বিস্তার ঠেকাতে আগে থেকেই সব রকম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ইতিমধ্যে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে আসা ভারতীয় নাগরিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করা হয়েছে। সারাদেশের ন্যায় বন্দর নগরী চট্টগ্রামেও নেয়া হয়েছে নানাবিধ ব্যবস্থা। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে চট্টগ্রামের সব হাসপাতালগুলোতে ইতিমধ্যেই মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। বিমানবন্দর ও নৌ-বন্দরে মেডিকেল টিমের চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক স্ক্যান করে দেখছেন বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের।

বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকায় অনেক চীনা নাগরিক দীর্ঘদিন ধরেই বাস করছেন বাংলাদেশে। এ ভাইরেসের কারণে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে সারা বিশ্ব। নভেল করোনা ভাইরাসের কারণে এখন পর্যন্ত চীনে ১০৬ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৩ হাজারের বেশি।

এ ভাইরাস বাংলাদেশের কোথাও এখনও সনাক্ত করা না গেলেও সোমবার (২৭ জানুয়ারি) করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্ক না ছড়ানোর জন্য এক জরুরি সভা ডাকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।

সভায় মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, এ ভাইরাস বাংলাদেশে এখনও আসেনি। তবে সরকার এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সচেতনতাই পারে এ ভাইরাস প্রতিরোধ করতে। জরুরি প্রয়োজনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পরিচালিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দায়িত্বরত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

চট্টগ্র্রেমর সিভিল সার্জন শেখ ফজলে রাব্বি বাংলাধারাকে বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত কোথাও এ রোগ শনাক্ত হয়নি। তবে আমরা সতর্ক অবস্থায় আছি। এখনও পর্যন্ত শনাক্ত হয়নি কেউ।’

তিনি আরো বলেন, আমরা একটা মেডিকেল টিম তৈরি করেছি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে ৫টা শয্যার ব্যবস্থা করেছি এবং ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশানের যে গাইডলাইন দেওয়া আছে সেই গাইডলাইন অনুযায়ী যদি রোগী শনাক্ত হয় সেভাবে চিকিৎসা দেওয়া হবে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, করোনা ভাইরাসটি মানুষের দেহকোষের ভেতরে ইতিমধ্যেই ‘মিউটেট করছে’ অর্থাৎ গঠন পরিবর্তন করে নতুন রূপ নিচ্ছে এবং সংখ্যাবৃদ্ধি করছে। যার ফলে এটি বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

করোনা ভাইরাসটির আরেক নাম ২০১৯-এনসিওভি। করোনা ভাইরাসের অনেক রকম প্রজাতি আছে। এর মধ্যে মাত্র ৭টি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে।

যেভাব ছড়ায়

বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এ ভাইরাসটি একজন মানুষের দেহ থেকে আরেকজন মানুষের দেহে দ্রুত ছড়াতে পারে।

করোনা ভাইরাস মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই এটি একজনের দেহ থেকে আরেকজনের
দেহে ছড়ায়। সাধারণত ফ্লু বা ঠাণ্ডা লাগার মতো করেই এ ভাইরাস ছড়ায় হাঁচি-কাশির মাধ্যমে।

লক্ষণ
* করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রধান লক্ষণ হলো শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।

* এর সঙ্গে সঙ্গে থাকে জ্বর এবং কাশি।

* অরগ্যান ফেইলিওর বা দেহের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া।

* হতে পারে নিউমোনিয়া।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটি শরীরে ঢোকার পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে প্রায় পাঁচ দিন লাগে। প্রথম লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। তার পর দেখা দেয় শুকনো কাশি। এক সপ্তাহের মধ্যে দেখা দেয় শ্বাসকষ্ট।

প্রতিকার
যেহেতু এই ভাইরাসটি নতুন, তাই এর কোন টিকা বা ভ্যাকসিন এখনো নেই এবং এমন কোন চিকিৎসা নেই যা এ রোগ ঠেকাতে পারে। তবে-

* রক্ষার একমাত্র উপায় হলো, যারা ইতিমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছে বা এ ভাইরাস বহন করছে- তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।

* ডাক্তাররা পরামর্শ দিয়েছেন বার বার হাত ধোয়া, হাত দিয়ে নাক-মুখ স্পর্শ না করা, ঘরের বাইরে গেলে মুখোশ পরা।

* আপনি যদি অসুস্থ হয়ে থাকেন তাহলে মুখোশ পরুন, আর নিজে অসুস্থ না হলেও, অন্যের সংস্পর্শ এড়াতে মুখোশ পরুন। কেননা চীনের উহান শহরে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শে এসে কমপক্ষে ১৫ জন চিকিৎসাকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন।

ভাইরাসটি এখন চীনের অন্যান্য শহর এবং চীনের বাইরে থাইল্যান্ড, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে। গত মঙ্গলবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম এক ব্যক্তির দেহে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

আরও পড়ুন