২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

খেলনা–ক্রোকারিজের কার্টুনে ‘বিদেশি সিগারেট’!

কর্ণফুলীতে এসএ পরিবহনের কাভার্ড ভ্যান থেকে লাখ লাখ টাকার ৬ হাজার অরিস–প্যাট্রন জব্দ

চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি এলাকার কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান এসএ পরিবহনের একটি কাভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ট-১৪-২৯২০) আটক করে তল্লাশি চালিয়ে খেলনা ও ক্রোকারিজ লেখা চারটি বড় কার্টুনের ভেতর থেকে বিদেশি ব্র্যান্ডের বিপুল পরিমাণ সিগারেট জব্দ করেছে কর্ণফুলী থানা পুলিশ।

পুলিশের দাবি, জব্দকৃত সিগারেটের বাজারমূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা। তবে বাজারদর অনুযায়ী প্রকৃত মূল্য ২০–২২ লাখ টাকার বেশি হতে পারে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টা থেকে ভোর পর্যন্ত কর্ণফুলীর মইজ্জ্যারটেক এলাকায় গাড়িটি আটক করে শিকলবাহা পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়া হয়। রাতভর তল্লাশি শেষে চারটি কার্টুন থেকে বিদেশি ব্র্যান্ডের ORIS ও PATRON সিগারেট জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫বি (১)(বি) ও ২৫ডি ধারায় মামলা রুজু হয়েছে (জিআর থানা মামলা নম্বর ২৯/৭৯)। মামলা রেকর্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনূর আলম।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি নাইট ডিউটিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই (নি.) ইমরান ফয়সাল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে রাত আড়াইটার দিকে গাড়িটি থামান। তল্লাশিতে এসএ পরিবহনের দুটি বুকিং চালান কপি পাওয়া যায় একটিতে খেলনা, অন্যটিতে ক্রোকারিজ উল্লেখ ছিল।

কিন্তু কার্টুন খুলে দেখা যায়, মোট ৬০০ বড় প্যাকেট সিগারেট রয়েছে। প্রতিটি বড় প্যাকেটে ১০টি করে ছোট প্যাকেট হিসেবে মোট ৬ হাজার ছোট প্যাকেট উদ্ধার দেখানো হয়েছে। পুলিশের হিসাবে প্রতিটি ছোট প্যাকেটের মূল্য ২০০ টাকা ধরে মোট মূল্য ১২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অরিস ব্র্যান্ডের এক প্যাকেট (২০ স্টিক) সাধারণত ৩০০–৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়। অপরদিকে প্যাট্রন ব্র্যান্ডের কিছু প্রিমিয়াম ভ্যারিয়েন্ট ২,৪০০ থেকে ২,৯০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা যায় বিশেষ দোকান বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে। সে হিসাবে জব্দকৃত চালানের প্রকৃত বাজারমূল্য আরও বেশি হতে পারে এমন প্রশ্ন উঠেছে।

গাড়িচালক নোয়াখালীর শহিদ উল্ল্যাহ জানান, মইজ্জ্যারটেক থেকে গাড়ি আটক করে শিকলবাহা ফাঁড়িতে নেওয়া হয় এবং সব ডকুমেন্টসহ মালামাল জব্দ করা হয়।

অন্যদিকে এসএ পরিবহনের কাজীর দেউড়ি শাখার জেনারেল ম্যানেজার মো. মোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি কেবল গ্রাহকের বুকিংকৃত পার্সেল পরিবহন করে; কোনো মালামাল প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নয়। সব বুকিংয়ের চালান ও প্রেরক–প্রাপকের তথ্য সংরক্ষিত থাকে।

পুলিশের এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, কুরিয়ার গাড়িটি সরল বিশ্বাসে মালামাল পরিবহন করছিল। গাড়িতে অন্যান্য বৈধ ও পচনশীল পণ্য থাকায় জনদুর্ভোগ এড়াতে বাকি মালামালসহ ট্রাকটি ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় বগুড়া ও কক্সবাজারের তিনজনকে পলাতক আসামি দেখানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা বিদেশ থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সিগারেট আমদানি করে চোরাচালানের মাধ্যমে সরবরাহ করছিলেন।

ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্মকর্তাদের বক্তব্যে গাড়ি আটকের বিষয়টি নিশ্চিত হলেও জব্দকৃত সিগারেটের প্রকৃত বাজারমূল্য নিয়ে প্রশ্ন থেকে গেছে।

থানার ওসি শাহীনূর আলম বলেন, “যতটুকু সিগারেট জব্দ করা হয়েছে, ততটুকুই মামলা দেওয়া হয়েছে। গণনার সময় ভিডিও করা হয়েছে, যাতে কোনো সন্দেহ না থাকে।”

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কক্সবাজারের হলিডে মোড় শাখা থেকে পাঠানো চালানের মূল্য ২০ লাখ টাকার বেশি হতে পারে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ