১১ মার্চ ২০২৬

কর্ণফুলীতে ড্রেজিং বন্ধে শঙ্কা, সিএমপি কমিশনারকে বন্দরের জরুরি চিঠি

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর উজানে ড্রেজিং কার্যক্রম বন্ধ থাকলে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়ে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা জানিয়ে সহযোগিতা চেয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

গত ১০ মার্চ বন্দরের হাইড্রোগ্রাফার বিভাগ থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন বন্দর সচিব। চিঠিতে কর্ণফুলী নদীর উজানে চলমান ড্রেজিং ও ডাম্পিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করা হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর দেশের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের ৯২ শতাংশেরও বেশি আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ কারণে বন্দরকে দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই বিশাল কার্যক্রম সচল রাখতে কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, নদীর নাব্যতা কমে গেলে বড় জাহাজ বন্দরে প্রবেশে বাধার মুখে পড়ে। এতে জাহাজ হ্যান্ডলিং সক্ষমতা কমে যায় এবং জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বন্দরের সীমানা হালদা নদীর মোহনা থেকে দক্ষিণে কক্সবাজার এবং উত্তরে সীতাকুণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত।
চিঠিতে আরও বলা হয়, কর্ণফুলী নদীর উজানে পানির প্রবাহ ও নাব্যতা বাড়ানো গেলে ভাটির দিকে পলি জমা কমে।

এতে বন্দরের জেটি এলাকাসহ নদীর নিম্নাংশে নাব্যতা বজায় রাখা সহজ হয় এবং ড্রেজিং ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

বন্দর সূত্র জানায়, শাহ আমানত সেতুর উজান ও ভাটিতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং শেষ হওয়ার পর বর্তমানে সংরক্ষণ ড্রেজিং কার্যক্রম চলছে। সদরঘাট থেকে বাকলিয়া চর পর্যন্ত এলাকায় আটটি খালের মুখে ড্রেজিং করায় খালের মুখের নাব্যতা বেড়েছে। ফলে শহরের ব্যবহৃত পানি সহজে নদীতে পড়ছে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এ ছাড়া বাকলিয়া চর, শিকলবাহা, নাজিরচর ও কালুরঘাট এলাকায় নদীর গভীরতা কমে যাওয়া স্থানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন-২০২২ অনুযায়ী ইজারা দিয়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট গভীরতা বজায় রেখে ড্রেজিংয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে এসব এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে অবৈধভাবে বালি ও মাটি উত্তোলন করা হতো বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ৯ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় ড্রেজিং ও ডাম্পিং কার্যক্রম বন্ধ রাখতে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তীতে গত ১ মার্চ থেকে কাজ পুনরায় শুরু হলেও বাকলিয়া থানা থেকে আবারও ড্রেজিং ও ডাম্পিং বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানতে পেরেছে।

চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়, দীর্ঘদিন ড্রেজিং কার্যক্রম বন্ধ থাকলে কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা দ্রুত কমে যাবে। এতে বন্দরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হবে এবং দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে নদীর নাব্যতা কমে গেলে চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

এ অবস্থায় দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে কর্ণফুলী নদীর উজানে বন্দরের নিয়োজিত ঠিকাদারদের মাধ্যমে ড্রেজিং ও ডাম্পিং কার্যক্রমে সহযোগিতা দিতে সিএমপির প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠিতে বিষয়টিকে জরুরি উল্লেখ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

আরও পড়ুন