চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) মো. জহির রায়হানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ ও একতরফা তদন্তের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মো. ফারুক আহমেদ নামে এক ব্যক্তি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন, যেখানে তহসিলদারের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে নামজারি ও মিথ্যা খতিয়ান সৃজনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ মে ২০২৫ তারিখে ৪১৮৮ নং মামলায় জহির রায়হান একতরফা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। নামজারি খতিয়ান নং-১৭৪৩-এর প্রস্তাব ফর্ম দেখে প্রতিবেদন দিতে বললে তিনি ভুক্তভোগী ফারুক আহমেদের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি একতরফা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রস্তাব ফর্মে ৮৮৭ দাগে জমির পরিমাণ ছিল ১৩৫০ শতক, কিন্তু তহসিলদার জহির রায়হান ১৭৪৩ নং খতিয়ানে তা ২৬৫০ শতক দেখিয়ে সৃজন করেন। বিষয়টি তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখের অনুরোধ করলেও তিনি তা আমলে নেননি।
স্বত্বহীনের নামে নামজারি: টাকার বিনিময়ে প্রতিবেদন!
অভিযোগপত্রে তহসিলদার জহিরের বিরুদ্ধে আরেকটি গুরুতর তথ্য উঠে এসেছে। ইছানগর মৌজার ২৩০ নং খতিয়ানের মালিক মো. ইসমাইল। তার নামে ছিল মাত্র ৪১.৬২ শতক জমির হিস্যা। কিন্তু তহসিলদার জহির রায়হান তাকে দিয়ে আলমাস খাতুনের নামে ১৯ শতক ও লায়লা বেগমের নামে ৩০ শতক (মোট ৪৯ শতক) জমির নামজারি করিয়ে দেন, যা ছিল ৭.৩৮ শতাংশ জমি অতিরিক্ত। অর্থাৎ, মূল খতিয়ানে যত জমি ছিল তার চেয়ে বেশি জমি প্রদান করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, ২৫৪/২৫-২৬ নং মামলার আদেশ অনুযায়ী ২৫-৪০৮৯ নং খতিয়ানের ৭.০০ শতক জমি, যে জমিতে মো. ইসমাইলের কোনো স্বত্ব ছিল না, তাও টাকার বিনিময়ে তার নামে নামজারি করে দেন তহসিলদার জহির রায়হান—এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীর।
ফাইল খুললেই ঘুষ, মামলায় লাখ টাকা দাবি!
ভুক্তভোগী ফারুক আহমেদের আরও অভিযোগ, চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রতি নামজারি ফাইলে জহির রায়হান সর্বনিম্ন ৫ হাজার থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করেন। অন্যদিকে, প্রতি মিস মামলার জন্য তিনি সর্বনিম্ন ১০ হাজার থেকে ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করে থাকেন।
জানতে চাইলে অভিযোগকারী মো. ফারুক আহমেদ বলেন, “আমি সঠিক তথ্য চেয়েছিলাম, কিন্তু উনি টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় উনি আমার বিরুদ্ধে একতরফা রিপোর্ট দেন। এছাড়াও যাদের জমিতে কোনো স্বত্ব নেই, তাদের কাছ থেকেও টাকা নিয়ে নামজারি করে দেন তিনি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) মো. জহির রায়হান বলেন, “কাজের চাপ থাকায় ওইদিন বিষয়টি খেয়াল করতে পারিনি। যদিও অফিস সহকারী শহীদ মূল ভলিউম চেক করে থাকেন। কিন্তু ভুলে ৭.৩৮ শতাংশ জমি বেশি নামজারি হয়ে গেছে। পরে মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খতিয়ানটি বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আর ঘুষের বিষয়টি মিথ্যা অভিযোগ। ওটা সত্য নয়।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণফুলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল আমিন হোসেন বলেন, “অভিযোগ তদন্ত করে পরে মন্তব্য জানাব।”
এদিকে, কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কবে নাগাদ তদন্ত শুরু হবে এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়—এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে কর্ণফুলীতে।












