কারাবন্দি অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। মৃত হাজতির নাম আব্দুর রহমান মিয়া (৭০)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারসহ একাধিক জটিল রোগে ভুগছিলেন।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানায়, কোতোয়ালী থানার একটি মামলায় হাজতি হিসেবে আটক থাকা আব্দুর রহমান মিয়া গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ সালে কারাগারে আসেন।
পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৪ ডিসেম্বর তাকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা তাকে ভর্তি করেন।
চমেক হাসপাতালে প্রায় এক মাস চিকিৎসা নেওয়ার পর ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ সালে তাকে ছাড়পত্র দিয়ে আবার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
তবে হাসপাতালের ছাড়পত্র অনুযায়ী তার শরীরে ফুসফুসের ক্যান্সার থেকে মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়া (Carcinoma lung with brain metastasis), উচ্চ রক্তচাপসহ একাধিক জটিল রোগ ধরা পড়ে।
পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ সালে পুনরায় তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ শরীফ।
জানা গেছে, আব্দুর রহমান মিয়া চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন উত্তর আগ্রাবাদ পূর্ব মুহুরি পাড়া এলাকার মৃত জইন উদ্দিন প্রকাশ দরফ আলীর ছেলে।
অন্য সূত্রের দাবি, তিনি ২৪ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ আগ্রাবাদ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। তবে কমিটির কোনো কাগজপত্র দৃশ্যমান হয়নি।
চমেক হাসপাতালের মৃত্যুর সনদে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে Carcinoma lung with brain metastasis। পাশাপাশি তিনি উচ্চ রক্তচাপ (HTN), সিওপিডি (COPD) ও ডায়াবেটিস (DM) রোগেও আক্রান্ত ছিলেন।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ শরীফ জানান, হাজতির মৃত্যুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।













