বাংলাধারা প্রতিবেদন »
বন্দর নগরী চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতুর সংস্কার কাজ ২৩ জুলাই শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোরবানির ঈদের কথা বিবেচনা করে গত সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু গত ১৯ জুলাই পর্যন্ত সেতু মেরামতের কোন কাজ করা হয়নি। তারপর ২০ জুলাই সামান্য কিছু কাজ হয়েছিল। যার ব্যয় হয়েছে বড়জোর ৫-৭ লাখ টাকা। ফলে বাকি টাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের যোগসাজশে আত্মসাতের অভিযোগ এনেছেন আইনজীবী সেলিম চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার বরাবরে এ আবেদন করেছেন।
সেলিম চৌধুরী চিঠিতে উল্লেখ করেন, কালুরঘাট সেতু মেরামতের জন্য ৫২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ‘এবি কনস্ট্রাকশন’ সেতু মেরামতের কাজ পেয়েছে। গত ১৩ থেকে ২৩ জুলাই সেতু মেরামতের কাজ করার জন্য ১০ দিন যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয় রেল কর্তৃপক্ষ। ২০ জুলাই থেকে লোকদেখানো কিছু কাজ হচ্ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু মেরামতে বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা খরচ হবে।

বাকি টাকা রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ ও ঠিকাদারের যোগসাজশে আত্মসাত করার প্রচেষ্টা চলছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন এ আইনজীবী।
এ ব্যাপারে জানতে রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ সবুক্তগীনকে বার বার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেন নি।
এ রেল সেতু দিয়ে চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী লাইনে প্রতিদিন এক জোড়া ট্রেন এবং দোহাজারী ১০০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্টের জন্য ফার্নেস ওয়েলও ট্রেনে আনা-নেওয়া করা হয়।
গত বছরের শেষ ভাগেও একবার সংস্কার করা হয়। বর্তমানে সেতুর মাঝখানের অংশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ওই এলাকায় রেল ও যানবাহন চলাচলের জন্য একটি নতুন সেতু ওই স্থাপনে নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের।
উল্লেখ্য, কালুরঘাট রেল সেতু নির্মিত হয় ১৯৩০ সালে। ১৯৫৮ সালে এটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ২০০১ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পর ২০০৪ ও ২০১২ সালে দুই দফায় এই সেতু বন্ধ রেখে সংস্কার কাজ করেছিল রেলওয়ে।
কর্ণফুলী নদীর উপর নির্মিত এ রেল সেতু স্থানীয়ভাবে কালুরঘাট পোল নামে পরিচিত।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












