কক্সবাজার প্রতিনিধি »
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াল অগ্নিকান্ডের ১০দিনের মাথায় এবার কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং বাজারে একটি মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসময় আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে এ পর্যন্ত তিনজন মারা গেছেন। তারা দোকানের কর্মচারি বলে খবর পাওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রায় দু’ কোটি টাকার। শুক্রবার (২ এপ্রিল) ভোররাত ৩টার দিকে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।
আগুনে অঙ্গার হওয়ারা হলেন, উখিয়ার কুতুপালং ১০ নম্বর ক্যাম্পের ব্লক-১০ (জি)’র বাসিন্দা সৈয়দ আলমের ছেলে আনসারুল্লাহ (২০), একই ক্যাম্পের রেজাউল করিমের ছেলে ফরিদুল ইসলাম (২৫) ও আমান উল্লাহর ছেলে মুহাম্মদ আয়াছ (২২)। তারা তিনজনই দোকানের কর্মচারী ও রোহিঙ্গা নাগরিক। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯নম্বর ওয়ার্ড কুতুপালং এলাকার সদস্য ও বাজার কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন।
তিনি জানান, শুক্রবার ভোর রাত তিনটার দিকে কুতুপালং বাজারে আগুন লাগার খবর পেয়ে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেয়া হয়। স্টেশনের দলনেতা ইমদাদুল হকের নেতৃত্বে দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। আগুনের সূত্রপাত কিভাবে হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না। তবে, ধারণা করা হচ্ছে কয়েলের আগুন হতে আগুন লেগেছে। কাপড়ের দোকানসহ ৭টি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মিভুত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরো ২৫-৩০টি দোকান। অগ্নিকান্ডে প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার খবর পেয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
হেলাল আরো জানান, বাজারের দোকানে মানুষ রাত্রি যাপন করে না। কিন্তু গতরাতে কাজ সেরে কর্মচারিরা রাতে থেকে যান। একটি দোকানে ৫ জন ও অপর দোকানে ৬ জন রাত্রি যাপন করেছে। আগুন লাগলে একটি দোকানে ৫জনই দরজা খুলে বেরোতে পারে আরেক দোকানের ৩ জন বের হতে পারলেও বাকি তিনজন অঙ্গার হয়ে যান। এদের একজন দোকানের ভেতর টয়লেটের পানির কল ছেড়ে আগুন থেকে বাঁচার চেষ্টা করেও বাঁচতে পারেননি। পানি লাগা পা দুটি কম পুড়লেও পুরো শরীর তার অঙ্গার হয়ে যায়।
দমকল বাহিনী কর্মকর্তা ইমদাদুল বলেন, উখিয়ার শরণার্থী ক্যাম্প সংলগ্ন কুতুপালং বাজারের মার্কেটে আগুন লাগার খবর পেয়ে সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে ভোর রাত সোয়া ৫টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে তার আগে বেশ কিছু দোকানপাট ও অন্যান্য স্থাপনা ভস্মিভূত হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনও সহযোগিতা করে। আগুনের সূত্রপাতের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ এখনো সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ২২ মার্চ সোমবার উখিয়ার বালুখালীসহ তিনটি আশ্রয় শিবিরে আগুনে ১০হাজার বসতি পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ছয় শিশুসহ অন্তত ১১জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৪৫০জন, গৃহহীন হয়েছিল ৪৫ হাজার মানুষ। এর ১০ দিনের মাথায় বাজারের এ অগ্নিকান্ড আতংক সৃষ্টি করেছে।
বাংলাধারা/এফএস/এআর












