বাংলাধারা প্রতিবেদন »
ক্রেতাদের অজান্তে তাদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে বিভিন্ন কৌশলে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও স্মার্ট কাড ব্যবহার অবৈধভাবে সিম রেজিস্ট্রেশন করে তা একটিভেট বাজারে বিক্রি করে আসছিল একটি জালিয়াত চক্র।
এমন একটি জালিয়াতি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ফেরদৌস সরোয়ার রবিন (১৮), মিনহাজুল ইসলাম (২৩), মিশু আহমেদ (৩০) এবং জাবেদ ইকবাল (৩০)।
ফেরদৌস সরোয়ার রবিন রবি মোবাইল অপারেটর কোম্পানির লোকাল এজেন্ট একে খান টেলিকম লিমিটেডে সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন কৌশলে মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র ও স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করে এবং গ্রাহকদের অজান্তে তাদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে রবি মোবাইল অপারেটরের সিম রেজিস্ট্রেশন করে একটিভ সিম বাজারে বিক্রি করে আসছিলেন।
বৃহস্পতিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এসএম মেহেদী হাসান তাঁর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
তাদের কাছ থেকে দেড়শ একটিভ সিম, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণের একটি ক্যাবল ও তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মেহেদী হাসান বলেন, জালিয়াতির মাধ্যমে রবি মোবাইল অপারেটরের সিম রেজিস্ট্রেশন করে বাজারে একটিভ সিম বিক্রি করে আসছিল একটি চক্র। এ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দেড় শতাধিক বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
এসএম মেহেদী হাসান জানান, এ চক্রটি এখন পর্যন্ত দেড় শতাধিক সিম রেজিস্ট্রেশন করেছে। তাদের সঙ্গে আর যারা জড়িত তাদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।
কেউ চাইলে বা অপ্রয়োজনে কোথাও ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা এনআইডি কার্ডের কপি না দিতে জনসাধারণকে অনুরোধ জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নেজাম উদ্দিন বলেন, বুধবার বিকেলে বাকলিয়া থানার বলিরহাট এলাকার ব্যবসায়ী মুহাম্মদ ইসমাইল নামে এক ভুক্তভোগী পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন তার জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ৩০টি সিম রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। যদিও ইসমাইল ব্যবহার করছিলেন মাত্র চারটি সিম। ইসমাইলের অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে জালিয়াত চক্রটির সন্ধান পাই আমরা। জানতে পারি, রবি মোবাইল অপারেটর কোম্পানির লোকাল এজেন্ট একে খান টেলিকম লিমিটেডে সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ ফেরদৌস সরোয়ার রবিন বিভিন্ন সময় ইসমাইলের কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেন।
ওসি নেজাম বলেন, ফেরদৌস সরোয়ার রবিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে বিষয়টি স্বীকার করে। ইসমাইলের ছাড়া আরো সাত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সিম রেজিস্ট্রেশন করেছে বলে জনায় সে। পরে রবিনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাতে কালামিয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিনহাজুল ইসলাম ও মিশু আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে রেয়াজউদ্দিন বাজার থেকে জাবেদ ইকবালকে গ্রেফতার করা হয়।
বাংলাধারা/এফএস/এমআর












