বাংলাধারা ডেস্ক »
নেত্রকোনায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত হন এক যুবক। এসময় তার ব্যাগে পাওয়া যায় এক শিশুর কাটা মাথা। ইতমধ্যে নিহত যুবক ও শিশুটির পরিচয় সনাক্ত করেছে পুলিশ।
গণপিটুনিতে নিহত যবকের নাম যুবকের নাম রবিন (২৮) আর শিশুটির নাম সজীব মিয়া (৭)।
গতকালের নিউজ: ছেলেধরাকে পিটিয়ে হত্যা, ব্যাগে মিলল শিশুর কাটা মাথা
বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে শহরের নিউটাউন পুকুরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে ঘাতক গণপিটুনিতে নিহত হওয়ায় এ ঘটনার কোনো কূল-কিনার করতে পারছে না পুলিশ।
নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তাজুল ইসলাম জানান, নিহত যুবকের নাম রবিন (২৮)। তিনি শহরের পূর্ব কাটলি এলাকার এখলাছুর রহমানের ছেলে। গলা কেটে হত্যার শিকার শিশু সজীব একই এলাকার রিকশাচালক রইস উদ্দিনের ছেলে। তারা ওই এলাকায় হিরা মিয়ার ভাড়া বাসায় থাকতো।
স্থানীয়রা জানান, রিকশাচালক রইস উদ্দিন ছিলেন রবিনের প্রতিবেশী। তাদের মধ্যে বেশ সুসম্পর্কই ছিল। মাঝেমধ্যে রবিনও রিকশাচালাতো।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত রবিন মাদকাসক্ত ছিল। প্রায়ই হরিজন পল্লীতে মদপানের জন্য যেতো সে। গতকাল শিশু সজীবের কাটা মাথা ব্যাগে নিয়ে সেদিকেই যাচ্ছিল রবিন।
তবে কি কারণে সাত বছরের শিশুকে এভাবে হত্যা করল রবিন সে বিষয় এখনও রহস্যাবৃত। এ ঘটনার পেছনে আর কেউ জড়িয়ে আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে স্থানীয় পুলিশ।
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী বলেন, ঘটনার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে শিশু সজীব ও বখাটে রবিনের পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। সজীবের মস্তকবিচ্ছিন্ন মরদেহটি তার বাসার সামনের সড়কের পূর্ব কাটলি এলাকার নির্মাণাধীন একটি ভবনের তিনতলা থেকে উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্থানীয়রা জানান, দুপুরে একটি ব্যাগে করে সজীবের কাটা মাথা নিয়ে মদপান করতে যায় রবিন। তার ব্যাগ থেকে তখন রক্ত গড়িয়ে পড়ছিল। এসময় হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজনের সন্দেহ হয়। ব্যাগে কি আছে দেখতে চান তারা।
রবিন জানায়, তার ব্যাগে মাছে আছে। রবিনের কথায় বিশ্বাস না করে ব্যাগ খুলে তারা শিশু সজীবের কাটা মাথা দেখেন। ধরা পড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিক দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করে রবিন। বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে ধাওয়া করে নিউটাউন পুকুরপাড় এলাকায় সজীবের কাটা মাথাসহ ধরে ফেলে এবং গণপিটুনি দিয়ে তাকে মেরে ফেলে।
এদিকে ছেলে হারিয়ে দিশেহারা শিশু সজীবের মা শরীফা বেগম। কান্নারত কণ্ঠে তিনি বলেন, সকালে ঘর থেকে পাঁচ টাকা নিয়ে বের হয় সজীব। দুপুরে আর ঘরে ফেরেনি সে। তার খোঁজাখুঁজি শুরু করি আমরা। দুপুরে জানতে পারি, নিউটাউন এলাকায় এক শিশুর দেহ বিচ্ছিন্ন কাটা মাথা নিয়ে যুবক ধরা পড়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখি সেই মাথা আমার সজীবেরই। গণপিটুনিতে নিহত ওই যুবক রবিন আমাদের প্রতিবেশী। সে কেন এটা করল আমরা জানি না। তার সঙ্গে আমাদের কোনো শত্রুতা ছিল না।
এদিকে গতকালের এ ঘটনায় নেত্রকোনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে পদ্মাসেতুর মাথা লাগবে এমন গুজব ছড়িয়ে দিচ্ছেন অনেকে।
শহরের অনেকেই তাদের সন্তানদের চোখের আড়াল করতে চাইছেন না। এমনকি আজ অনেকে তাদের সন্তানদের স্কুলেও পাঠাননি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী জেলাবাসীকে শিশুদের প্রতি খেয়াল রাখার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। মূলত এটি বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা। এ ঘটনার রহস্য খুঁজছি আমরা।
বাংলাধারা/এফএস/এমআর












